ভর্তি প্রস্তুতি
উম্মে আয়মান © টিডিসি সম্পাদিত
উম্মে আয়মান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ৮৬৯তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ পান তিনি। তবে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে।
ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্যের পেছনের প্রস্তুতি, কৌশল ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন উম্মে আয়মান। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম।
আপনার সাফল্যের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল? প্রথম কাকে জানিয়েছিলেন?
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়ার খবরটা যখন পেলাম, সেই মুহূর্তটা আমার জীবনের এমন একটি মুহূর্ত, যেটা আমি হয়তো কখনোই ভুলতে পারব না। ফলাফল দেখার পর প্রথমেই আম্মুকে ফোন করেছিলাম। কথা বলতে গিয়ে কান্না চলে এসেছিল। এতদিনের অপেক্ষা, ভয়, অনিশ্চয়তা আর পরিশ্রমের পর অবশেষে যখন নিজের নামটা দেখতে পেলাম, তখন অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন । এমন অনেক মানুষও ছিলেন, যারা হয়তো মনে করেছিলেন আমি পারব না। তাই খবরটা পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে একটা গভীর তৃপ্তিও কাজ করছিল, মনে হচ্ছিল এতদিনের সবকিছুর একটা সুন্দর উত্তর অবশেষে দিতে পেরেছি।
এছাড়াও এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল আমার পরিবারকে ঘিরে থাকা অনেকগুলো স্বপ্নও। আম্মু-আব্বু আমাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেই স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগোতে পারা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। সেদিন নিজের আনন্দের চেয়েও বেশি আবেগী হয়ে পড়েছিলাম যখন বুঝলাম, আমার এই ছোট্ট সাফল্যটা তাদের জন্য কতটা বড় আনন্দের। মনে হয়েছিল, তাদের এতদিনের দোয়া আর আমার ওপর রাখা বিশ্বাসের কাছে অবশেষে একটু হলেও ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি আপনি কতদিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন এবং কীভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন?
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর থেকেই আমি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করি। শুরুতে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও দেখতাম, ক্যাম্পাস সম্পর্কে জানতাম, আর ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে একটা জেদ তৈরি হয়েছিল যে, যেভাবেই হোক আমাকে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নিতে হবে। সেই জায়গা থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করি।
তবে শুরুতেই খুব নিখুঁত কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পড়তে পড়তেই বুঝেছি কোন বিষয়গুলোতে আমার ঘাটতি বেশি, কোথায় বেশি সময় দেওয়া দরকার। সেই অনুযায়ী ধীরে ধীরে নিজের প্রস্তুতিটাকে সাজিয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে থাকা এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাওয়া।
প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন? আপনার পড়ার রুটিনটা কেমন ছিল?
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আমি গড়ে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার মতো পড়াশোনা করতাম। বাংলা ও ইংরেজি দিনের বেলায় পড়তাম, পাশাপাশি আগের পড়াগুলো রিভিশন দিতাম। সাধারণ জ্ঞানে তুলনামূলক দুর্বল ছিলাম বলে সেটার জন্য রাতে একটু বেশি সময় রাখতাম। রাতে পড়তে আমার স্বাচ্ছন্দ্যও ছিল, তাই অনেক সময় রাত ২টা বা ৩টা পর্যন্ত পড়েছি, তবে এটাকে আদর্শ রুটিন হিসেবে বলব না, এটা আমার নিজের পড়ার অভ্যাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘুমের দিকেও খেয়াল রাখতাম, কারণ শুধু বেশি সময় জেগে থাকলেই ভালো প্রস্তুতি হয় না, পড়াটা বুঝে মনে রাখাও জরুরি।
যারা এখন ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা একটা বিষয় মনে রাখবেন, অন্য কারও পড়ার রুটিন দেখে নিজের পড়ার সময় ঠিক করবেন না। একজন হয়তো একটি বিষয় এক ঘণ্টায় বুঝে ফেলতে পারে, আবার কারও একই বিষয় বুঝতে পাঁচ ঘণ্টা লাগতে পারে। তাই নিজের পড়ার গতি, দুর্বলতা ও প্রয়োজন বুঝে সময় ভাগ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান দুর্বল ছিল বলেই সেখানে বেশি সময় দিয়েছি। আপনারও যে জায়গায় বেশি সময় প্রয়োজন, সেখানেই বেশি সময় দেওয়া উচিত।
আপনার প্রস্তুতিতে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে?
কোচিংয়ের পাশাপাশি বাসায় নিজের পড়াশোনাকে আমি খুব গুরুত্ব দিয়েছি। শুধু কোচিংয়ের ক্লাস আর পরীক্ষার ওপর নির্ভর করিনি। কোচিংয়ে যা পড়ানো হতো, বাসায় ফিরে সেগুলো আবার দেখতাম এবং নিজের বইগুলোও নিয়মিত পড়তাম। আমার পড়া বইগুলো অন্তত দুই থেকে তিনবার শেষ করার চেষ্টা করেছি, কারণ একবার পড়ে অনেক কিছুই মনে থাকে না।
আরেকটি বিষয় আমার প্রস্তুতিতে অনেক বেশি কাজে দিয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নব্যাংক বারবার সমাধান করা। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন নয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন দেখলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়। তাই কোচিংয়ের পাশাপাশি বাসায় নিজের পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় রাখা এবং নিয়মিত প্রশ্নব্যাংক সমাধান করা আমার জন্য খুব কার্যকর ছিল।
ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে কোন ধরনের অংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
বাংলা ও ইংরেজি নিয়ে আমার খুব বেশি সমস্যা ছিল না, তাই আমার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সাধারণ জ্ঞান। সাধারণ জ্ঞানে আমি তুলনামূলক দুর্বল ছিলাম এবং পড়ার পর অনেক কিছুই ভুলে যেতাম। তাই একই জিনিস বারবার পড়েছি এবং রিভিশন দিয়েছি। সাধারণ জ্ঞানের জন্য দুজন লেখকের বই পড়েছি, পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর বিভিন্ন ক্যাপসুলও পড়েছি। একই বিষয় বারবার ফিরে দেখার কারণে ধীরে ধীরে আমার দুর্বল জায়গাটা অনেকটা ঠিক হয়ে যায়।
আর যারা ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হতে চান, তাদের জন্য ইংরেজির বেসিক বিষয়গুলো ক্লিয়ার থাকা খুব জরুরি, কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাবজেক্ট পাওয়ার জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ইংরেজিতে ভালো মার্কস প্রয়োজন হয়। তাই শুরু থেকেই ইংরেজির বেসিক গ্রামার ভালোভাবে বুঝে পড়া উচিত। শুধু নিয়ম মুখস্থ না করে উদাহরণসহ বুঝে পড়লে বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করা যায়। পাশাপাশি ভোকাবুলারি, সিনোনিম-অ্যান্টোনিম, সেনটেন্স কারেকশন এবং রিডিংয়েরও নিয়মিত প্র্যাকটিস করা ভালো।
আর কেউ চাইলে নিজের ইংরেজি স্কিল আরও ভালো করার জন্য টোফেলের প্রিপারেশনও নিতে পারে। তবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রথমে বেসিক গ্রামার, ভোকাবুলারি এবং কোয়েশ্চেন ব্যাংককে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগোনোই ভালো।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?
আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল নিজের মানসিক অবস্থাটা ঠিক রাখা। অনলাইন ও অফলাইন কোচিংয়ের পরীক্ষাগুলোতে অনেক সময় প্রত্যাশামতো নম্বর বা মেধাক্রম আসত না। তখন মনে হতো, হয়তো আমি পারব না। অনেকবার মন খারাপ হয়েছে, কান্নাও করেছি, এমনকি আম্মু-আব্বুকে ফোন করে বলেছি যে আমার মনে হয় আমি পারব না। কিন্তু তারা আমাকে ভেঙে পড়তে দেননি। তারা বলতেন, একটা একটা করে পরীক্ষা দিতে থাকো, নিজের মতো করে পড়াশোনা চালিয়ে যাও, শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটা তখন দেখা যাবে।
তাই কোচিংয়ের কোনো একটি পরীক্ষায় কম নম্বর বা প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ মেধাক্রম এলে সেটাকে নিজের সক্ষমতার চূড়ান্ত প্রমাণ মনে করবেন না। আমার ক্ষেত্রেও এমন অনেক পরীক্ষা গেছে, যেখানে ফলাফল ভালো হয়নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। তাই একটা পরীক্ষার ফলাফল দেখে থেমে না গিয়ে পরের পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল?
পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টা আমি পরীক্ষার আগেই মাথায় রাখতাম। কারণ এক ঘণ্টার মধ্যে অনেকগুলো এমসিকিউ করার পাশাপাশি প্রশ্নের তথ্য বুঝে উত্তর দেওয়ার সময়ও থাকে। তাই প্রথমে যেসব প্রশ্নের উত্তর আমি নিশ্চিতভাবে জানতাম, সেগুলো করেছি। এরপর যেগুলো নিয়ে একটু ভাবার প্রয়োজন ছিল, সেগুলোতে সময় দিয়েছি। এতে শুরুতেই কঠিন কোনো প্রশ্নে বেশি সময় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আরেকটা বিষয় খুব সতর্কভাবে খেয়াল করতাম, সেটা হলো প্রশ্নের নির্দেশনা। অনেক সময় তাড়াহুড়োর কারণে বাংলা অংশের উত্তর ইংরেজি অংশে বা অন্য কোনো জায়গায় ভুলভাবে দাগ দেওয়ার মতো ছোট ভুল হয়ে যেতে পারে। এসব ভুল কিন্তু পুরো পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কোথায় কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সেটাও ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
পরীক্ষার হলে কোন কৌশল অবলম্বন করে পরীক্ষা দিয়েছেন?
পরীক্ষার হলে প্রথমেই রেজিস্ট্রেশন, রোল, কোডসহ প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে পূরণ করেছি এবং পরে আবার মিলিয়ে দেখেছি। এরপর যেসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে জানতাম, সেগুলো আগে করেছি। কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি এবং তার মধ্যে কতগুলো নিয়ে আমি নিশ্চিত, সেটাও মাথায় রাখতাম। এতে বাকি সময়টুকু কোন প্রশ্নে দেওয়া উচিত, সেটা বুঝতে সুবিধা হতো।
যেসব প্রশ্নে দুইটি অপশনের মধ্যে দ্বিধা থাকত, পরিস্থিতি বুঝে কখনো উত্তর দিয়েছি। কিন্তু যে প্রশ্ন একদমই পড়িনি বা উত্তর সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, সেগুলোতে অনুমান করে দাগ দেওয়ার সাহস করিনি। কারণ নেগেটিভ মার্কিংয়ে সামান্য নম্বরও গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তি পরীক্ষায় কখনো কখনো ০.২৫ নম্বরও আপনার অবস্থান বদলে দিতে পারে, তাই ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রেও খুব হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রস্তুতির সময় কখনো হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল? হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন?
প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সময় মনে হয়েছে, হয়তো আমি পারব না। বিশেষ করে কোনো পরীক্ষায় কম নম্বর এলে বা মেধাক্রম প্রত্যাশামতো না হলে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমে যেত। তখন আম্মু-আব্বুর সঙ্গে কথা বলতাম। তারা সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং আমাকে আবার পড়াশোনায় ফিরিয়ে এনেছেন। তাদের কথাগুলো শুনে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আবার নিজের পড়ায় ফিরে যেতাম।
যারা এখন এই সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের একটা কথা বলতে চাই, হতাশা আসতেই পারে, কিন্তু সেটাকে নিজের পুরো প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে দেবেন না। আমি নিজেও অনেকবার ভেবেছি হয়তো পারব না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত ভয় না পেয়ে যতটুকু সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক বা বন্ধুদের ভূমিকা কতটা ছিল?
আমার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল আম্মু-আব্বুর। অনেক মানুষ আব্বুকে বলেছিলেন, আমাকে এত দূর পর্যন্ত পড়াশোনা করানোর প্রয়োজন নেই, কিংবা আমি হয়তো পারব না। কিন্তু আব্বু সবসময় বিশ্বাস করতেন যে, আমি পারব, ইনশাআল্লাহ। আম্মুও পুরো সময়টাতে আমার পাশে ছিলেন। আমার মন খারাপ হলে আমাকে সামলানো থেকে শুরু করে পড়াশোনার সময় মানসিকভাবে শক্ত রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অনেক বড়।
এর পাশাপাশি আমার বোন, কোচিংয়ের শিক্ষকরা এবং একজন বড় ভাইও আমাকে বিভিন্ন সময়ে উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কোথায় কীভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো হবে, কীভাবে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো ঠিক করা যায়, এসব বিষয়ে তাদের পরামর্শ পেয়েছি। তাই এই সাফল্যকে আমি শুধু নিজের একার অর্জন হিসেবে দেখি না, আমার পাশে থাকা মানুষগুলোর ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতারও একটা অংশ এখানে রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগকে পছন্দ করার বিশেষ কারণ কী?
আমি চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম, আর ইংরেজি আমার দ্বিতীয় পছন্দের বিষয় ছিল। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, আর আমার মনে হয়েছে ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করলে সেই পথেও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব। পাশাপাশি আমার আম্মু-আব্বুরও ইচ্ছা ছিল আমি ইংরেজি নিয়ে পড়ি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে সুযোগ পাওয়ার পর তাই তাদের সেই ইচ্ছাটাও পূরণ করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশও আমাকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করেছিল। পাহাড়, ঝরনা, ফুল, গাছপালা, বিভিন্ন ধরনের প্রাণী, সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসটির একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভিডিও দেখেই জায়গাটার প্রতি একটা ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল। পরে এখানে এসে বুঝেছি, এই জায়গাটার সৌন্দর্য শুধু ছবিতে দেখার মতো নয়, নিজের চোখে অনুভব করার মতোও।
যারা আগামী বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কী?
প্রথমত নিজের বেসিক ক্লিয়ার করতে হবে এবং শুধু একবার পড়ে বই রেখে দিলে হবে না, অন্তত দুই থেকে তিনবার রিভিশন দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নব্যাংক বিশ্লেষণ করা খুব জরুরি। কারণ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নের ধরন একরকম নয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে, সেটা বুঝতে পারলে নিজের প্রস্তুতিটাও সেই অনুযায়ী সাজানো যায়।
আর কোচিং করলেও শুধু কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বাসায় নিজের পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় রাখতে হবে এবং নিয়মিত মডেল টেস্ট বা পরীক্ষা দিতে হবে। নিজের প্রস্তুতি কোথায় আছে, সেটা শুধু পড়ার পরিমাণ দেখে বোঝা যায় না, পরীক্ষা দিয়ে নিজের ভুলগুলো ধরতে পারলেই আসল ঘাটতিগুলো বোঝা যায়।
একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীকে আপনি যদি মাত্র তিনটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন, সেগুলো কী হবে?
১. নিয়মিত পড়াশোনা ও রিভিশন: শুধু নতুন নতুন বিষয় পড়লেই হবে না। আগে যা পড়েছেন, সেটাও নিয়মিত রিভিশন দিতে হবে। একদিন পড়ার পর দুই দিন বিরতি দিয়ে আবার পড়া, এমন যেন না হয়। প্রতিদিন অল্প হলেও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা জরুরি, কারণ নিয়মিত পড়লে বিষয়গুলো মনে রাখা এবং শেষ সময়ে চাপ কমানো দুটোই সহজ হয়।
২. প্রশ্নব্যাংক বিশ্লেষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন সমাধান করতে হবে এবং নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে হবে। এতে প্রশ্নের ধরন বোঝার পাশাপাশি নিজের দুর্বল জায়গাগুলোও ধরা পড়ে।
৩. নিজের ওপর বিশ্বাস ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা: কোনো একটি পরীক্ষায় কম নম্বর বা খারাপ মেধাক্রম এলে ভেঙে পড়া যাবে না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, একটি পরীক্ষার ফলাফল পুরো ভর্তি-যাত্রা নির্ধারণ করে না। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে যেতে হবে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।