৩৭ শিক্ষক-কর্মচারীর কলেজের ৪৬ শিক্ষার্থীই এইচএসসিতে ফেল, সরকারের বছরে ‘গচ্চা’ দেড় কোটি

০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ AM
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ © টিডিসি ফটো

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪৬ শিক্ষার্থী। তবে তারা কেউই পাস করতে পারেননি, সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ এমপিওভুক্ত এ কলেজের ৩৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেছেন। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে কলেজসংলগ্ন সোনাদহ বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

মানববন্ধনে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডলসহ সিরাজুল ইসলাম, খোরশেদ আলম, দুলাল হোসেন, তারাজুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য দেন।

১৯৯৬ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে ৩৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও শিক্ষার মান ও ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন অভিভাবক সন্তানদের ভর্তি বাতিল করে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান না করে অভ্যন্তরীণ দলাদলি ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নামমাত্র হাজিরা দিয়ে অনেক শিক্ষক বাজারে আড্ডা দেন। অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে অভিভাবকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।

১৯৯৬ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে ৩৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও শিক্ষার মান ও ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কয়েকজন অভিভাবক সন্তানদের ভর্তি বাতিল করে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ মনে করেন, পরিচালনা পর্ষদের বিরোধ ও শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের কারণে এ ফল বিপর্যয় হয়েছে। তবে বর্তমান অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম কামাল দাবি করেন, স্থানীয় দ্বন্দ্বের নেতিবাচক প্রভাব শ্রেণিকক্ষেও পড়েছে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় যথাযথ মনোযোগ দিতে পারেননি।

এদিকে তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ছাড়াও বগুড়া জেলার আরও চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গাবতলীর বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ, ধুনটের গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজ এবং কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর: প্রাথমিক শিক্ষকদের পে-ফিক্সেশনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজের তিনজন, গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজের দুজন, দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজের দুজন এবং আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি। চারটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিওভুক্ত।

গোসাইবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম অর্থসংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষকদের বেতন না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে আল্লামের তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌস আলমের ভাষ্য, গত তিন বছর ধরেই তাঁদের প্রতিষ্ঠানে এমন ফল হচ্ছে। সাত শিক্ষক বেতন-ভাতা না পাওয়ায় নিয়মিত কলেজে আসেন না।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানের অগ্রগতি ভিডিওকলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

২১ বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ‎স্মৃতির ক্যাম্পাসে উৎসবের দ…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে কত বাড়ল
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের দাম পাঁচ গুণ বেশি, ক্ষুব্ধ বাসিন্দা…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬: সারা দেশে দ্বিতীয় নাটোরের তরুণ উ…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
বিয়ের ১৭ দিনের মাথায় নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ স্…
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি কলেজে ১৭ শিক্ষকের ১০ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ
  • ০২ নভেম্বর ২০২৬