আজ কিছু সাহসী মানুষের গল্প শুনবো। কেন সাহসী? কোন যুদ্ধ জয় করেছে তারা? সেই গল্পটাই শুনবো। তারা মানবতার যুদ্ধ জয় করেছে। জীবনের বন্ধুর পথে চলতে চলতে পরিশ্রান্ত মানুষের মুখের হাসি জয় করেছে। অবহেলিত শিশুদের বন্ধুত্ব জয় করে নিয়েছে। জীবন নামক যুদ্ধে পোড়-খাওয়া মানুষের ভালবাসা জয় করেছে। তাদের হৃদয়ে এক টুকরো জায়গা দখল করে নিয়েছে।
বলছি ‘মানবতা’ নামক একটি ছাত্র সংগঠনের কথা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরুণ কিছু প্রাণ সংগঠনটির সংগঠক ও পরিচালক। এই সাহসী যোদ্ধারা এখনও সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন নির্ভীক, নিরলসভাবে। শুরুটা হয় আজ থেকে আরও ছয় বছর আগে। ২০১৩-তে। বিভীষিকাময় সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে সাহায্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় তাদের পথচলা। তখনও তারা সবাই মাত্র স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। মানবিকতা নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটি দেখতে দেখতে ছয়টি বছর পার করেছে। এখন তারা সারা দেশব্যাপী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষদেরকে রোজা ও ঈদে খাদ্যসামগ্রী বিতরনের পাশাপাশি শীতে কম্বল ও সোয়েটার বিতরণ করে থাকে।
২০১৮ সালের শেষদিকে শীতে তারা বান্দরবন সদর ইউনিয়নের উজিপাড়া, গোদারপাড় গ্রামে, রোয়াংছরি উপজেলার বেতছাড়া প্রাইমারি স্কুলে ৩৫০ সোয়েটার ও ১০০০ কাপড় বিতরণ করে। ঢাকা ও কুড়িগ্রাম সহ দুটি এতিমখানায় কম্বল ও শীতের কাপড় বিতরণ করেছে ছিন্নমূল মানুষদের দিয়ে কাজ করা সংগঠনটি। এছাড়াও বছরব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পথশিশুদের স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী দিয়েও তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে।
সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাফাত বিন রাজ্জাক জানালেন তাদের পথচলার গল্পটা। বললেন, ‘চলার পথটা খুব সহজ ছিল না। প্রায়ই মনে হয়, এই বুঝি ব্যর্থ হব, এবার মনে হয় কাজটা আর শেষ করতে পারবো না।’ তিনি বলেন, ‘সবাই যদি সবার জায়গা থেকে এগিয়ে আসেন; তবে সত্যিকার অর্থেই খুব অল্পসময়ে ছিন্নমূল মানুষগুলোর অবস্থা বদলানো সম্ভব।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত আরেক সংগঠক সাদিয়া আফরিন মীমের কাছে জানা গেল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে। তিনি জানান, তারা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মূল্যবোধ, পরিবেশ ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার চিন্তা-ভাবনা করছেন। প্রতিষ্ঠাকালীন আরেক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত সানজিদা আফরিন প্রিতু জানায়, ‘আমাদের সামাজিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। যেসব বিষয়ে কাজ করলে সত্যি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে; তেমন কিছু প্রজেক্ট নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করছি। খুব শীঘ্রই সেগুলো আপনাদের সামনে আসবে।’