© সংগৃহীত
গ্রাহকদের কাছে ভেজালমুক্ত মুক্ত গুড় সরবরাহে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন যশোরের ৫ তরুণ। অনলাইনে যশোর জেলার ঐতিহ্যবাহী খাঁটি নলেন গুড় বিক্রি করবেন তারা। এজন্য ৬০ জন গাছির সাথে ৩ লাখ টাকা দিয়ে চুক্তি করা হয়েছে। শনিবার (১৭ নভেম্বর) থেকে তাদের এই অনলাইন বিপণনের যাত্রা শুরু হয়েছে।
গুড় পাটালি এবং খেজুরের গুড় উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত যশোর জেলা। কিন্তু উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় গাছিরা চিনি ও নানা রকম উপকরণ মিশিয়ে ভেজাল খেজুরের গুড় ও পাটালি উৎপাদন করেন। এতে করে মানুষ সুস্বাদু এ গুড় ও পাটালি খেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যশোরের এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে অনলাইন ভিত্তিক খাঁটি গুড় সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় ৫ যুবক।
উদ্যোক্তারা জানায়, ৬০ জন গাছির কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে রস, গুড় ও পাটালি সংগ্রহ করা হবে। মানভেদে প্রতি কেজি পাটালির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি গুড়ের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে গুড় এবং পাটালি কেনার অর্ডার করা যাবে। ওয়েবসাইট www.kenarhat.com এর মাধ্যমে গ্রাহকরা অর্ডার করতে পারবেন। পণ্য সরবরাহের জন্য কোন চার্জ নেয়া হবে না। এছাড়া যশোর শহরের টাউন হল মাঠে ‘সন্ধ্যা রসের আড্ডা’ নামে একটি বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে সেখানে গুড়ের চা ও বিশুদ্ধ সন্ধ্যা রস পাওয়া যাবে। রসের সঙ্গে থাকবে হাতে ভাজা মুড়ি। এখান থেকে আয়ের একটি অংশ গাছিদের ছেলেমেয়ের লেখাপড়ায় ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে উদ্যোক্তারা।
অন্যদিকে স্নাতক শেষ করে চাকরির চেষ্টা না করে এই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় অনুপ্রণিত হয়েছে অনেক যুবক।
উদ্যোক্তাদের একজন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যশোরের খেজুরের গুড় ও পাটালির স্বাদ নেওয়ার জন্য সারা দেশের মানুষ শীত মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু ভেজালের কারণে মানুষ কয়েক বছর ধরে গুড় ও পাটালি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এতে যশোরের এ শিল্প ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তাই এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য প্রথম পর্যায়ে আমরা পাইলট প্রকল্প হিসেবে যশোরের একটি ইউনিয়নের ৬০ জন গাছিকে নিয়ে নির্ভেজাল রস, গুড় ও পাটালি উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রাথমিক ভাবে তাদের কে ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গাছিরাও ন্যায্য মূল্য পাবে আবার মানুষ খাঁটি গুড়ের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে না।
শনিবার জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেনারহাটডটকম নামের এই ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন। পাশাপাশি তিনি ৫ তরুণকে এমন অভিনব উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানান।