পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা © সংগৃহীত
পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর দৌড়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে তিন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। খবর আল জাজিরার
ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় চীন অনেক পিছিয়ে থাকলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটি এই ব্যবধান কমিয়ে ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো বিষয়টি দুঃখজনক, কারণ সম্ভব হলে আমি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করতে চাই। আমরা এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলছি এবং চীনের সঙ্গেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করছি।’
চীন পারমাণবিক অস্ত্র কমিয়ে আনতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি, সম্ভাব্য চুক্তি কিংবা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে রাশিয়ার হাতে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশ দুটির প্রত্যেকের কাছে চার হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে, চীনের হাতে রয়েছে প্রায় ৬২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড।
বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের আনুমানিক ৮৬ শতাংশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। গত এক বছরে চীনও তার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত সীমিত রাখার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ‘স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি’ বা কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। চুক্তিটি দুই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য করা হয়েছিল।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স ইনিশিয়েটিভ’ ঘোষণা করেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি ও এ বিষয়ে দেশটির কঠোর অবস্থানের কারণে ইউরোপে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের উদ্যোগটি সামনে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যারেথ ইভান্স বলেন, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ কমে গেছে। তাঁর মতে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বড় চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি কিংবা ব্যবহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বাধাও ক্ষয় হচ্ছে।
ইভান্স বলেন, ‘বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগজনকভাবে উদাসীন হয়ে পড়েছে। বড় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোর প্রতিটি হয় শেষ হয়ে গেছে, নয়তো শেষ হওয়ার পথে কিংবা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া বা তা ব্যবহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটিও দুর্বল হয়ে পড়ছে।’
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা কতটা এগোয়, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বাইরে আলোচনার শর্ত, সময়সীমা কিংবা কোনো সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।