সুদহার বাড়ায় দেশটির শেয়ারবাজারের গতি কমেছে © সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওজে)। এর ফলে দেশটিতে ঋণ নেওয়ার খরচ ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। খবর আল জাজিরার
শুক্রবারের (১৮ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত গত জুনের পর জাপানের প্রথম সুদহার বৃদ্ধি। নতুন সুদহার দেশটির অর্থনীতির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত নিরপেক্ষ পর্যায়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে কয়েক দশকের অতি কম সুদের নীতি থেকে আরও এক ধাপ সরে এলো জাপান। দীর্ঘদিনের অতি কম সুদের নীতি জাপানি ইয়েনকে বৈশ্বিকভাবে কম খরচে ঋণ নেওয়ার অন্যতম প্রধান মুদ্রায় পরিণত করেছিল।
জাপানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ এবং দেশীয় মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে থাকায় মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি স্থির ছিল।
এদিকে জাপানে শ্রমশক্তি কমে যাওয়ায় মজুরি বাড়ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কোজি নাকামুরা সোমবার বলেন, শ্রমশক্তি সংকোচনের কারণে সৃষ্ট ‘ধীরগতির জনমিতিক ধাক্কা’ একটি কাঠামোগত বিষয়। এটিকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে উপেক্ষা করা যায় না।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়েছে। চলতি বছর আরও একবার সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরও সুদহার বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের ব্যবধান আরও বাড়লে ইয়েন দুর্বল হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে জাপানে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে জাপানের বর্তমান সুদহার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) হারের চেয়েও কম। গত সপ্তাহে ইসিবি তাদের মূল সুদহার বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। সুদহার বৃদ্ধির পর জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদার বক্তব্যের দিকে নজর রাখছে দেশটির শেয়ারবাজার। ভবিষ্যতে আরও কত দ্রুত এবং কখন সুদহার বাড়ানো হতে পারে, তার ইঙ্গিত তার বক্তব্যে পাওয়া যেতে পারে।