কৈখালী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড © টিডিসি ফটো
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার কৈখালী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কৈখালী বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন দেখতে পেয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে কাঁঠালিয়া ও পার্শ্ববর্তী পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এরই মধ্যে বাজারের ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি গুদামঘর পুড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে বাজারের ফিরোজের কসমেটিকসের দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের দোকানগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর পাশাপাশি দোকানের মালামাল বের করে আনার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনজন আহত হন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিরোজের কসমেটিকসের দোকান, মন্টু ইলেকট্রনিক্স, লিটন মুন্সীর মুদি দোকান, সবুজ খানের কসমেটিকসের গুদাম, হাসান মৃধার অপটিক্যাল ফাইবারের অফিস, লিটনের মুদি দোকান, মতি মোল্লার মুদি দোকান, বিমলের মুদি দোকান ও বেকারি, আব্দুল কাদেরের টিভি সার্ভিসিং সেন্টারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও দুটি গুদামঘর। আগুনে দোকানের মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কসমেটিকস ব্যবসায়ী ফিরোজ বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ দোকানে আগুন লাগে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আমার দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে। ব্যবসা চালানোর মতো কিছুই আর নেই। আগুনে আমার জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে।’
ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী মন্টু বলেন, ‘দোকানে থাকা টেলিভিশন, ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র সব পুড়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন এত ভয়াবহ হয়ে যায় যে কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাইনি। এতে আমার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।’
মুদি ব্যবসায়ী লিটন মুন্সী বলেন, ‘দোকানে অনেক টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমরা ছোট ব্যবসায়ী। এই ক্ষতি কাটিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করা আমাদের জন্য খুব কঠিন। সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
অপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মতি মোল্লা বলেন, ‘আগুনে দোকানের কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। চোখের সামনে নিজের দোকান পুড়ে যেতে দেখেছি। ধারদেনা করে ব্যবসা করছিলাম। এখন সব শেষ।’
আরও দেখুন: ম্যাপল বিয়ার কানাডিয়ান প্রি-স্কুলে ৪ পদে নিয়োগ
মুদি দোকান ও বেকারি ব্যবসায়ী বিমল বলেন, ‘দোকানের পাশাপাশি বেকারির মালামালও পুড়ে গেছে। এতে আমাদের পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে আবার দাঁড়ানো কঠিন হবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা, আর্থিক অনুদান এবং নতুন করে দোকানঘর নির্মাণের জন্য সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা এবং দোকানঘর পুনর্নির্মাণের জন্য ঢেউটিন দেওয়ার আশ্বাস দেন।
কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।’
এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি-বেসরকারি সহায়তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তারা আবারও ব্যবসা শুরু করে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।