প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ পান করে অন্তত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও প্রায় ১০০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ওন্দো রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানজি আজাকা জানান, ওদিগবো ও ইরেলে স্থানীয় সরকার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মোট ১৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। খবর গার্ডিয়ানের
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩২ বছর বয়সী সোলা আদেবায়ো স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভিসি নিউজকে বলেন, ‘আমি দুই পেগের মতো পান করেছিলাম এবং শুক্রবার বাইরে গিয়েছিলাম। শনিবার বুঝতে পারি, আমি আর দেখতে পারছি না।’
নাইজেরিয়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ পান বেশ প্রচলিত। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এসব পানীয় তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলোর উৎপাদন ও বিক্রির ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
ওন্দো রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানজি আজাকা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘এটি খুব দ্রুত ঘটেছে। তারা কতটা পান করেছে তার ওপর নির্ভর করে কিডনি অচল হয়ে যেতে পারে, দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওন্দো রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আবায়োমি জিমোহ এক বিবৃতিতে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এমন একজন রয়েছেন, যিনি মিথানলযুক্ত সন্দেহজনক পদার্থ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বর্তমানে পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এপি-কে জানিয়েছেন, ‘মাঙ্কি টেইল’ নামে পরিচিত উচ্চমাত্রার অ্যালকোহলযুক্ত একটি জনপ্রিয় ভেষজ পানীয়ের সঙ্গে মিথানল মেশানোর কারণে এসব মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ওদিগবোতে ওই পানীয় বিক্রি করেন এমন এক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এপিকে জানান, ‘মাঙ্কি টেইল’-এর দুটি ধরন রয়েছে। এর একটি প্রচলিত ও নিরাপদ হলেও অন্যটি অনিরাপদ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এ ঘটনায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
এদিকে নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (এনএএফডিএসি) স্যাশে ও ছোট প্লাস্টিকের বোতলে বিক্রি হওয়া অ্যালকোহলের ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে। সংস্থাটির দাবি, এসব পানীয় শিশু ও তরুণদের কাছে সহজেই পৌঁছে যায়।