ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলেদেমির জেলেনেস্কির সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জংশঙ্কর © সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমালেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সরকারি সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমা বিশ্বের চাপ ও দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, মস্কোর অর্থনৈতিক আয়ের পথ বন্ধ করে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করার যুক্তি সঠিক নয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা এই যুদ্ধ কেবল সংলাপ, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। কোনো দেশ তেল, অ্যালুমিনিয়াম, খনিজ, ধাতু কিংবা সার কিনল বা না কিনল—তার ওপর ভিত্তি করে এই সংঘাত থামবে না।
বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতার মাঝে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চরম চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে ইউক্রেনের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা ভারত শ্রদ্ধা করে; তবে ভারতের নিজস্ব চাহিদাজনিত যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, সেটিও সবার শ্রদ্ধা করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, মস্কোর জ্বালানি বাণিজ্য রুদ্ধ করলে যুদ্ধ চালানোর অর্থ জোগান বন্ধ করা সম্ভব হবে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে একটি দ্বিপাক্ষিক বিল পাস হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি বজায় রাখা ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের এখতিয়ার দেবে।
পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র চাপ সত্ত্বেও রাশিয়া এখনও ভারতের অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বহাল রয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট তেল আমদানির মাত্র ০.২ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে বর্জন করলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত ছাড়কৃত মূল্যে রুশ তেল কেনা বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে ভারত তার চাহিদার ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে পেট্রোল ও ডিজেল তৈরি করে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে রাশিয়া থেকে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কপ্লার’-এর হিসেব অনুযায়ী, জুনে এবং জুলাইয়ে রেকর্ড দৈনিক ২৬ লাখ ব্যারেল আমদানির পর আগস্টে তা কমে দৈনিক ২১ লাখ ব্যারেলে নেমে এলেও, এটি এখনও ভারতের মোট তেল আমদানির ৪০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে ও রপ্তানি সচল রাখতে ভারতের মতো এশীয় দেশগুলোর ওপর রাশিয়ার নির্ভরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।