রথে চড়িয়ে কন্যা শিশুকে বরণ © টিডিসি ছবি
প্রায় দুই শতাব্দী ধরে যে অপেক্ষা, অবশেষে তার অবসান। মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার দহিফালে পরিবারে ২০০ বছর পর জন্ম নিয়েছে কন্যাসন্তান। আর পরিবারের সেই বহু প্রতীক্ষিত ‘লক্ষ্মী’কে ঘরে তুলতে আয়োজনের কমতি রাখেননি স্বজনেরা। ঢোল-নাকাড়া বাজিয়ে, সাত ঘোড়ার রথ সাজিয়ে ধুমধাম করে নবজাতক ও তার মাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন তারা।
গত ২৪ আগস্ট জন্ম নেয় শিশুটি। তার নাম রাখা হয়েছে ‘গার্গী’। বৈদিক যুগের দার্শনিক গার্গীর নাম অনুসারে নবজাতকের এই নাম রাখা হয়েছে। জন্মের তিন দিন পর মা ও গার্গীকে রথে চড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। সেই আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গার্গীর দাদু লিম্বাজি দহিফালে নাতনির জন্মে আবেগাপ্লুত। তাঁর দাবি, প্রায় ২০০ বছর ধরে তাদের পরিবারে কোনো কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি। চার প্রজন্ম পর পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে নাতনির আগমনকে তিনি জীবনের বিশেষ আনন্দ হিসেবে দেখছেন।
লিম্বাজি দহিফালে বলেন, ‘পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এত বছর ধরে আমাদের আক্ষেপ ছিল। পরিবারে কোনও মেয়ে হয়নি। আজ সেই আক্ষেপ পূরণ হয়েছে।’
নাতনিকে ঘিরে পরিবারের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পুত্রবধূদের প্রতিও নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন লিম্বাজি। তিনি বলেন, ‘আমার দুই পুত্রবধূ। দু’জনকেই মেয়ের মতো দেখি।’
গার্গীর ঠাকুমা সুরেখা দহিফালেও নাতনির জন্মে ভীষণ খুশি। হাসপাতালে থাকতেই পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, নবজাতককে সাধারণভাবে নয়, বরং উৎসবের আয়োজন করে বাড়িতে নিয়ে আসবেন।
সুরেখা বলেন, ‘আজ আমাদের ঘরে লক্ষ্মী এসেছে। আমরা খুব খুশি।’
গার্গীর বাবা হৃষিকেশ দহিফালে পেশায় ফার্মাসিস্ট। কন্যাসন্তানের বাবা হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনিও আবেগ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সবাই চায় ছেলে হোক। আমি কিন্তু প্রথম থেকেই একটা মেয়ে চেয়েছিলাম।’
মেয়ে ও বাবার সম্পর্ককে আলাদা মাত্রার বলে মনে করেন হৃষিকেশ। নিজের সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় গার্গীর জন্ম তার কাছে বিশেষ আনন্দের হয়ে উঠেছে।
দহিফালে পরিবারের এই আয়োজনের প্রশংসা করেছেন সমাজকর্মী অনন্ত ইংলে। তাঁর মতে, এখনও অনেক পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্মকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। সেই বাস্তবতায় গার্গীর জন্মকে ঘিরে দহিফালে পরিবারের উদযাপন সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
অনন্ত ইংলে বলেন, ‘সমাজে এখনও কন্যাসন্তানের জন্ম নিয়ে সংকীর্ণতা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গার্গীর জন্মকে এ ভাবে উদযাপন করে সমাজের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিল দাহিফালে পরিবার।’
প্রায় দুই শতাব্দীর অপেক্ষার পর পরিবারের প্রথম কন্যাশিশুর আগমনকে ঘিরে দহিফালে পরিবারের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে গার্গীর আগমন তাই শুধু নতুন একজন সদস্যের জন্ম নয়, দীর্ঘদিনের একটি অপেক্ষারও অবসান।