নির্যাতনের পরে গাছে বেঁধে আগুন, ৫৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হারলেন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার

৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ AM
ভারতের পাঞ্জাবি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর

ভারতের পাঞ্জাবি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর © টাইমস অব ইন্ডিয়া

এক মাসেরও বেশি লড়াই করেও শেষ রক্ষা হলো না। হাসপাতালেই মৃত্যু হলো ভারতের পাঞ্জাবি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌরের। তাকে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে অপহরণ, পরে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ৫৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মনজিৎ। ২৮ বছরের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার গত ২৬ অগস্ট চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরে খুনের মামলা দায়ের করেছে চণ্ডীগড় পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ জুলাই রাতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকা থেকে মনজিৎকে অপহরণ করা হয়। তাঁর মা কান্তা দেবীর অভিযোগে দুই পরিচিত ব্যক্তি শুভি ও পিন্ডার নাম উঠে এসেছে। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে সেক্টর ৩৪-এর মদের দোকানের কাছে গিয়েছিলেন মনজিৎ। সেখান থেকেই তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাঁকে পঞ্জাবের মোরিন্ডার কাছে একটি জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে মনজিৎকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়। পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁকে দেখে আগুন নেভান এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। 

প্রথমে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মোহালির একটি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ৯ জুলাই পিজিআইএমইআর-এ স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বেশ কয়েক সপ্তাহ অচেতন অবস্থায় ছিলেন মনজিৎ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট তিনি কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান ফিরে পান। সে সময়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২৬ আগগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

মনজিৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ফলোয়ার ছিল। পঞ্জাবি ও হরিয়ানভি গানের সঙ্গে রিল এবং বিভিন্ন ধরনের প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরি করতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: মেসির ৪ গোল—কিংবদন্তিরা বুঝি এভাবেই কামব্যাক করে!

মনজিৎ মারা যাওয়ার পরে তাঁর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এরপরই দুই অভিযুক্ত শুভি ও পিন্ডার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মনজিৎকে কেন টার্গেট করা হয়েছিল এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ফোন রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মনজিৎ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর বয়ান কেন রেকর্ড করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, ৫ আগস্ট জ্ঞান ফেরার পর মনজিৎ কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানানোর সুযোগও ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁর বয়ান নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

যদিও পাঞ্জাব পুলিশ কোনও গাফিলতির অভিযোগ মানতে চায়নি। পুলিশের বক্তব্য, ঘটনার প্রাথমিক পর্ব চণ্ডীগড়ে হওয়ায় তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে জটিলতা ছিল। মনজিৎকে কোথায় এবং কীভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল, সে তথ্যও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মনজিতের মৃত্যুর পরে এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা—কেন তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল, কারা তাঁকে মোরিন্ডায় নিয়ে গিয়েছিল, কেন নৃশংস হামলা চালানো হল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বয়ান রেকর্ডে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না। তদন্ত এগোলেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গ্র্যাজুয়েট হলেন ৫৯ বছর বয়সী সেই বেলায়েত শেখ
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে চোখের সামনে শিক্ষিকা স্ত্রীর মৃত্যু…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ, ইউজারনেম সংরক্ষণের সু…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
মোবাইলে নেপালের বিধ্বংসী ভিডিও দেখেই চলেছেন? মানসিক স্বাস্থ…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
শুটিং শেষে ঢাকায় ফেরার পথে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন অভিনে…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
হড়পা বানে কাদায় ঢেকে গেছে স্কুল, এক ফোনকলে দুই সন্তানের মায়…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬