মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে ‘ড. টিকটকের’ কাছে ছুটছে মানুষ, কতটা নিরাপদ সোশ্যাল মিডিয়ার পরামর্শ?

২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৭ PM
 টিকটকে মানসিক স্বাস্থ্যের পরামর্শ

টিকটকে মানসিক স্বাস্থ্যের পরামর্শ © সংগৃহীত

উদ্বেগ, এডিএইচডি কিংবা মানসিক আঘাত—মানসিক স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা নিয়ে এখন চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও পরামর্শ খুঁজছেন অনেকে। টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জটিল বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করছেন, ভুল ধারণা ভাঙছেন এবং নানা ধরনের ব্যবহারিক পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা ও সহমর্মিতা বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য কখনোই প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা বা আনুষ্ঠানিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নয়।

টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম খুলে উদ্বেগ, এডিএইচডি কিংবা মানসিক আঘাতের মতো কোনো বিষয় লিখে সার্চ করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সামনে আসছে নানা ধরনের কনটেন্ট। লাইসেন্সধারী মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করছেন, ভুল ধারণা দূর করছেন এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত চেম্বার, অর্থের বিনিময়ে নেওয়া কোর্স, বই এবং অন্যান্য পেশাগত সেবার প্রচারও করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কনটেন্ট এখন খুবই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এসব কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা কখনও কখনও লাখ থেকে কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। লাইসেন্সধারী চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা যখন চেম্বারের বাইরে ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন, তখন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনই এই কাজের বাণিজ্যিক ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সহজে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে খরচ, সামাজিক লজ্জা এবং প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর ঘাটতি এখনো বিশ্বের বহু মানুষের জন্য বড় বাধা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড মেন্টাল হেলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দেশে প্রতি ২ লাখ মানুষের জন্য একজনের বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। আর বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের মাত্র ৯ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। যুক্তরাজ্যে এডিএইচডি শনাক্ত করার মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষার তালিকায় অনেককে কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্টের পরিমাণ কতটা বেড়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে মাপা কঠিন। তবে বিভিন্ন হ্যাশট্যাগের পরিসংখ্যান থেকে এর ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

টিকটকে #anxiety হ্যাশট্যাগের ভিউ ২০২১ সালের শেষ দিকে ছিল ৬০০ কোটি। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬১০ কোটিতে। একইভাবে #MentalHealth হ্যাশট্যাগের ব্যবহারও দ্রুত বেড়েছে। জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চে (JMIR) প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চে এই হ্যাশট্যাগের ভিউ ছিল ২ হাজার ৫৩০ কোটি। পরবর্তী সময়ে JMIR Infodemiology-তে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের আগস্টে এই সংখ্যা ১০ হাজার কোটির বেশি হয়ে যায়। একই বছরের অক্টোবরে টিকটকও বিশ্বজুড়ে ১০ হাজার কোটির বেশি ভিউয়ের কথা জানিয়েছিল। তবে এসব সংখ্যা শুধু নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগের ভিউ হিসাব করে। ফলে হ্যাশট্যাগ ছাড়া প্রকাশিত কনটেন্ট বা অন্য শব্দ ব্যবহার করে হওয়া আলোচনা এই হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কনটেন্ট যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বড় থেরাপি ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেকের লাখ লাখ, এমনকি কোটি কোটি অনুসারী রয়েছে।’ এ কথা বলেন মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. জোনাথন শেডলার।

মানুষ কী খুঁজছে
কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহযোগী ড. কেটি রোজ সন্ডার্স ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে টিকটকের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করেন। তিনি দেখেছেন, ব্যবহারকারীরা সেখানে একে অন্যকে সহায়তা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছেন। কনটেন্ট নির্মাতাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দেখছেন। অনেকে সাহায্য চাইছেন, আবার কেউ নিজেরাই নিজেদের মানসিক সমস্যার রোগ নির্ণয় করা ঠিক কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

কেউ কেউ কেন আনুষ্ঠানিকভাবে রোগ নির্ণয় করাতে চান না, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন। আবার অনেকে নিজেরাই নিজেদের রোগ নির্ণয়ের প্রবণতার বিরোধিতা করেছেন।

ডিজিটাল গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ও মনোরোগ চিকিৎসক জানাগান আলাগারাজাহ বলেন, তরুণদের উপযোগী ভাষা, সমমনা মানুষের কমিউনিটি এবং পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিকিৎসার চেয়ে নিরাপদ ও সহজ মনে করাতে পারে।

‘সোশ্যাল মিডিয়া একটি কমিউনিটি। অনেক সময় মানুষ সেখানে নিজেদের একা ও বিচ্ছিন্ন মনে করা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়।’

তিনি অবশ্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্য দেওয়া এবং চিকিৎসার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করেন। তাঁর মতে, তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসার পথ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকারিতার পক্ষে প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট, প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।

‘সোশ্যাল মিডিয়া মনোবিজ্ঞানকে অনেকটাই সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছে’

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রবার্ট রুপা ইনস্টাগ্রামে @theocdpsychologist নামে একটি পেজ পরিচালনা করেন। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি দীর্ঘ লেখাও প্রকাশ করেন। তাঁর কাছে সোশ্যাল মিডিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং পেশাগত পরিচিতি তৈরির একটি সুযোগ।

‘জনসচেতনতা তৈরি করাই এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।’

আল জাজিরাকে এ কথা বলেন রুপা। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে পেশাজীবীরা বই ও একাডেমিক লেখার গণ্ডি পেরিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এর সঙ্গে পেশাগত ও আর্থিক স্বার্থও জড়িত। সোশ্যাল মিডিয়া চিকিৎসকদের সম্ভাব্য রোগী এবং নতুন রেফারেলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পরিচিতি বাড়লে ব্যক্তিগত চেম্বার, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগও বাড়তে পারে।

তবে রুপার কাছে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সহজে পৌঁছে দেওয়া। তাঁর মতে, এতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক লজ্জা কমে এবং মানুষের জ্ঞান বাড়ে।

‘আমি মনে করি, অনেক দিক থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া মনোবিজ্ঞানকে সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, মানুষ কোথায় বাস করে বা থেরাপির খরচ বহন করতে পারে কি না—সেটি আর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে শেখার একমাত্র বাধা নয়।

তবে তিনি পেশাগত সীমারেখার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। অনেক অনুসারী ব্যক্তিগত পরামর্শ চান বা ইনস্টাগ্রামের সরাসরি বার্তায় গুরুতর মানসিক সংকটের কথা জানান। চিকিৎসকেরা সাহায্য করতে চাইলেও অচেনা কোনো অনুসারীকে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যথাযথভাবে মূল্যায়ন বা চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। রুপার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পেশাগত সীমারেখা এবং সংকটের সময় কীভাবে সাড়া দিতে হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

অনলাইনে আছেন, কিন্তু ইনফ্লুয়েন্সার হতে চান না

ড. জোনাথন শেডলার অনলাইনে মনোবিজ্ঞান ও সাইকোথেরাপি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে তাঁর উদ্দেশ্য কখনোই বড় অনুসারী তৈরি করা ছিল না।

‘কোভিড মহামারি ও লকডাউনের সময় আমি নতুন একটি শহরে গিয়েছিলাম। তখন আমি একা ছিলাম এবং হাতে অনেক সময় ছিল। টুইটার আবিষ্কার করি এবং মানুষের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ রাখার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট করা শুরু করি। এর মধ্যে মনোবিজ্ঞান ও সাইকোথেরাপি নিয়ে পোস্টও ছিল। অবাক হয়ে দেখলাম, মানুষ এসব পোস্টের জন্য আমাকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে।’

তবে এই পরিচিতি ব্যবহার করে রোগী সংগ্রহ করার বিষয়টি তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর প্রশ্ন, মানুষ কীভাবে জনপ্রিয়তা আর প্রকৃত দক্ষতার মধ্যে পার্থক্য করবে?

‘মানুষ প্রায়ই জনসমক্ষে পরিচিতিকে জ্ঞান ও যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখে। কিন্তু দুটো এক বিষয় নয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি থমাস নিকোলসের ‘দ্য ডেথ অব এক্সপার্টিজ’ বইটির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ‘কিছু মানুষ চিকিৎসক হওয়ার চেয়ে ইনফ্লুয়েন্সার হতে বেশি আগ্রহী।’

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার চাপ কীভাবে পেশাজীবীদেরও বদলে দিতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন শেডলার।

‘আমি এমন কিছু মানুষকে দেখেছি, যাঁদের একসময় সম্মানিত পেশাজীবী মনে করতাম। কিন্তু তাঁরা এই পরিবেশে ঢুকে পড়েছেন এবং লাইক ও ফলোয়ার পাওয়ার জন্য এমন কনটেন্ট দিতে শুরু করেছেন, যাকে আমি ‘থেরাপি-স্লপ’ বলি। এই আকর্ষণ সত্যিই শক্তিশালী।’

জনপ্রিয়তা কি যোগ্যতার প্রমাণ?

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. গোরকেম ইলমাজ আরও ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অনলাইনে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি করেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যারা করেন, তাঁদের তিনি সমালোচনা করছেন না।

তাঁর যুক্তি, চিকিৎসার কাজ ব্যক্তিভেদে আলাদা এবং প্রতিটি রোগীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে করতে হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি অনির্দিষ্ট মানুষের কাছে কথা বলে, যেখানে খুব সংক্ষিপ্ত, দৃঢ়, একই ধরনের এবং সহজে চেনা যায়—এমন যোগাযোগ বেশি কার্যকর হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য সহজলভ্য হলেই সেটিকে তিনি সরাসরি ‘গণতন্ত্রীকরণ’ বলতে রাজি নন।

‘আমি বেশি মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোকে গণতন্ত্রীকরণের সঙ্গে এক করে দেখি না।’

তাঁর মতে, অনলাইনে বিশেষজ্ঞের কর্তৃত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং তার রূপ বদলে যায়। যোগ্যতা ও একাডেমিক পরিচয়ের পাশাপাশি ফলোয়ার সংখ্যা, দৃশ্যমানতা এবং ‘বিশ্বাসযোগ্যতার একটি নির্দিষ্ট ধরন’ও তখন মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে ইলমাজও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষামূলক কনটেন্টের গুরুত্ব স্বীকার করেন। এসব কনটেন্ট মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতার জন্য সঠিক ভাষা খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। লজ্জা ও একাকিত্ব কমাতে পারে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে পারে।

তাঁর মূল উদ্বেগ হলো, মানুষ সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর কী ঘটবে।

‘আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ছে। কিন্তু বাস্তব চিকিৎসাসেবা ও সরকারি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা একই গতিতে শক্তিশালী হচ্ছে না।’

তাঁর মতে, মানুষকে চিকিৎসার দিকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘একটি ছোট দরজা’ তৈরি করছে। কিন্তু সেই দরজার ওপারে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকলে এর সম্ভাবনা সীমিতই থেকে যাবে।

অ্যালগরিদম ও বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রভাব

ড. আলাগারাজাহ সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম ভুল তথ্যকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি মানুষের মধ্যে ক্ষতিকর আত্ম-রোগ নির্ণয়ের প্রবণতা তৈরি করতে এবং একই ধরনের মতামতের মধ্যে আটকে থাকা ‘ইকো চেম্বার’ তৈরি করতে পারে।

তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার সুপারিশ ব্যবস্থা সাধারণত মানুষের কতক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখা যাবে এবং বাণিজ্যিকভাবে কী লাভ হবে, সেটিকে গুরুত্ব দেয়। কোন তথ্য একজন মানুষের জন্য চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত—তা সবসময় অগ্রাধিকার পায় না। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের লক্ষ্য এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক লক্ষ্য একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে পড়তে পারে।

এ কারণে প্ল্যাটফর্মগুলোতে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

মানসিক স্বাস্থ্য কনটেন্টের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইলমাজের মতে, বিনা মূল্যের কনটেন্টও মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও পরিচিতি তৈরি করতে পারে। পরে সেই পরিচিতি অর্থের বিনিময়ে দেওয়া সেবায় রূপ নিতে পারে।

তবে আলাগারাজাহ মনে করেন, শুধু অর্থ উপার্জন করাকে নৈতিকতার সীমারেখা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। চিকিৎসকেরা বহুদিন ধরেই বই লিখে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। তাঁর মতে, মূল বিষয় হলো তথ্যটি সঠিক, দায়িত্বশীল এবং নিরাপদ কি না।

‘সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারলে কম খরচে মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষা, কমিউনিটির সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করা সম্ভব।’

তাঁর মতে, জনস্বাস্থ্যের মূল প্রশ্ন তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তথ্য থাকা উচিত কি না—এটি নয়। বরং কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে এসব তথ্য প্রমাণভিত্তিক, যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং নিরাপদ ও যোগ্য চিকিৎসাসেবার সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত—সেটিই আসল প্রশ্ন।

সংবাদসূত্রঃ আলজাজিরা 

সড়কে কলাগাছ ফেলে ছুরি হাতে যুবক, দেড় ঘণ্টা বন্ধ যান চলাচল
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
চাকরি দেবে ইজি ফ্যাশন লিমিটেড
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইবি প্রক্টর 
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সকল ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি স্থগিত
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পার্থ, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
ঘুষ-হয়রানির অভিযোগে বদলির সুপারিশ, দুই মাসেও বহাল
  • ২২ আগস্ট ২০২৬