আন্দোলনে অংশ না নিতে নির্দেশ দেওয়ায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া সমালোচনা রাহুলের

২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ PM
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী © সংগৃহীত

যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে অংশ না নিতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেওয়ায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) কঠোর সমালোচনা করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার সাহস হয় কীভাবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘সময় এলে আপনাদেরই জবাবদিহি করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভসহ কোনো ‘অবৈধ সমাবেশে’ অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যন্তর মন্তরে জনসমাবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সেখানে অংশ নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, লেখাপড়া এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিকে উসকে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর শুক্রবার সকালে একই ধরনের নির্দেশনা দেয় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)।

বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে যন্তর মন্তরের আশপাশে কোনো সমাবেশে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

জেএনইউর বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, আইন লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা পূজা ভাট।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করা হলে তাদের নিরাপত্তাই আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই চিন্তা থাকলে তাদের কথা বলার অধিকারকে সমর্থন করা উচিত।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও কংগ্রেসের সাংসদ দীপেন্দর হুডাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কোন রায়ে যন্তর মন্তরের সব ধরনের সমাবেশকে ‘অবৈধ’ বলা হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যাখ্যা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন।

এর আগে আইআইটি রুরকি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ না নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করার পরামর্শ দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে।

সমালোচনার মুখে আইআইটি রুরকি জানায়, এটি নতুন কোনো নীতিমালা নয়। প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বিদ্যমান আচরণবিধির অংশ হিসেবে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে আইআইটি মাদ্রাজের এক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের সমর্থনে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্ট সরিয়ে ফেলতে ডিন শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছেও বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ওমরাহ করতে যাওয়ার পথে বাংলাদেশি নারী ও দুই সন্তানের মৃত্যু
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
২৪ জুলাই: ইন্টারনেট ফিরতেই প্রকাশ পায় সহিংসতার চিত্র, শুরু …
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানা নেই, দেশে ফিরে সাংবাদিকদের…
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
চেলসি ছেড়ে দিলেও আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারকে লুফে নিল অ্যাস…
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
দেশে ফিরলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
  • ২৪ জুলাই ২০২৬
‘প্রটেকশন দেওয়া সম্ভব নয়’, মুফতি ফয়জুলের অনুষ্ঠানে অনুমত…
  • ২৪ জুলাই ২০২৬