বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র © সংগৃহীত
জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট আমদানির প্রায় পুরোটাই আসে এসব দেশ থেকে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের ঘোষণার পর শুক্রবার থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।
নতুন শুল্কের হার দেশভেদে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান ও ভারতের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
এর আগে বিদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্ক আরোপ করেছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুরু হওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকানোর পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
গ্রিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন। এ আইনের মাধ্যমে মার্কিন বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় জানিয়েছে, যেসব দেশ জবরদস্তিমূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ওপরই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় থাকা ৬০টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্য সংগ্রহ করে।
কার্যালয়টি আরও জানায়, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন ট্রাম্প। এখন পর্যন্ত ১০টি দেশ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।
তদন্তাধীন যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের জন্য শুল্কের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ ছাড়া তালিকার বাইরে থাকা তদন্তাধীন অন্যান্য দেশের জন্য শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস গণমাধ্যমে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের শুল্ক নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে দেশগুলোর পক্ষে নিজেদের দেশে জবরদস্তিমূলক শ্রমের ব্যবহার নেই—এটি প্রমাণ করা কঠিন হবে।
আরেক বিশেষজ্ঞ ওয়েন্ডি কাটলার সতর্ক করে বলেন, নতুন শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা করতে পারে।