প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কায় । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও তা ধ্বংস করতে সামরিক বাহিনীর ড্রোন মোতায়েন করেছে দেশটি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৬ জন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই,) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইনডিপেনডেন্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতেই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশের জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৬২টি এলাকা চিহ্নিত করেছে। প্রাদুর্ভাব রুখতে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সরকার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিমানবাহিনীর ড্রোন দিয়ে ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশকেও বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে লার্ভা ধ্বংসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের ভয়াবহ রূপের পেছনে ডেঙ্গু ভাইরাসের অতি সংক্রামক ‘ডিইএনভি-২’ ধরনটি দায়ী। মোট আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশেরই এই ধরন শনাক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই শ্রীলঙ্কায় ২১ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে মে মাসে ৮,৫৯০ জন এবং জুনে ২১,৫৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেশটির হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত শয্যা ও বিশেষ ওয়ার্ড চালুর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটির সময় বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-র প্রভাবে সৃষ্ট জলবদ্ধতা ও ধ্বংসাবশেষকে মশার বংশবিস্তারের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি মাসেই প্রায় ১১ হাজার প্রজননস্থল পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার দায়ে ৪ হাজারের বেশি স্থাপনাকে জরিমানা করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা সরকার ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের পরিকল্পনা করলেও ভাইরাসের একাধিক ধরনের উপস্থিতির কারণে এর কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১৭ সালে দেশটিতে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবে ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং অন্তত ৪৫০ জন মারা গিয়েছিলেন। সেই ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার আগাম এত কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে কলম্বো।