দাবানলে পুড়ছে ক্যালিফোর্নিয়া © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দুটি পৃথক ভয়াবহ দাবানলের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ চিত্রে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজওমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৮ মে) সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সিমি ভ্যালি শহরে প্রথম ‘স্যান্ডি ফায়ার’ নামের দাবানলটির সূত্রপাত হয়। দুপুরের দিকে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, শহরটির ঠিক দক্ষিণ অংশ থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
আগুনের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ৭৫০ জন দমকলকর্মী কাজ করছেন, যাদের সহায়তা করছে রাতেও পানি বর্ষণ করতে সক্ষম বিশেষ হেলিকপ্টার। সিমি ভ্যালি পুলিশ বিভাগের বরাতে জানা গেছে, এক ব্যক্তি ট্রাক্টর চালানোর সময় অসাবধানতাবশত একটি পাথরে আঘাত করলে সেখান থেকে তৈরি স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ইতোমধ্যে এই দাবানল ১,৩৬৪ একর (৫৫০ হেক্টর) এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন পর্যন্ত আগুনের কোনো অংশই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। নাসার দাবানল পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতভর আগুন আরও দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিমি ভ্যালি এবং এর আশেপাশের এলাকা থেকে ১০,০০০-এরও বেশি বাড়িঘর খালি করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আরও ৩,৫০০ বাড়িঘরকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সিমি ভ্যালির সব স্কুল মঙ্গলবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় এমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ৩০ জন নিহত এবং ১০,০০০-এর বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেস উপকূলের কাছে অবস্থিত ‘চ্যানেল আইল্যান্ডস ন্যাশনাল পার্ক’-এর সান্টা রোসা দ্বীপে আরেকটি পৃথক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার শুরু হওয়া এই আগুনে ইতোমধ্যে দ্বীপের ১৪,৬০০ একর (৬,০০০ হেক্টর) বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এই আগুনের কোনো অংশই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। অন্তত ৭০ জন দমকলকর্মী ও পার্ক রেঞ্জার আগুন নেভানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কোস্ট গার্ডের সহায়তায় দ্বীপের উপকূল থেকে ৬৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সান্টা রোসা দ্বীপটি মূলত জনমানবহীন হলেও এটি অত্যন্ত বিরল ও অনন্য এক প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম বা জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। নাসার স্যাটেলাইট ডাটা অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে এই আগুন উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে এখন দ্বীপের ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।