আল জাজিরার নিবন্ধ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান ও ভারতীয় গণতন্ত্রে নতুন মেরুকরণ

০৮ মে ২০২৬, ১২:৩১ PM
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর আনন্দ মিছিলে বিজেপি সমর্থকরা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর আনন্দ মিছিলে বিজেপি সমর্থকরা © সংগৃহীত

ভারতের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী রায়ে পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ ভেঙে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আরোহণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ঘোষিত ২৯৩টি আসনের ফলাফলে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক জয়কে ঘিরে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতজুড়ে বইছে বিতর্কের ঝড়।

বিজেপির এই বিশাল জয়ের পেছনে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) পরিচালিত অত্যন্ত বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভুয়া ভোটার সরানোর নামে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ৯ মিলিয়নেরও বেশি নাম (মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ) প্রাথমিকভাবে যাচাই বা বাতিলের তালিকায় রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগতভাবে মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, বিশেষ করে সেই জেলাগুলোতে যেখানে বিজেপি ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল ছিল। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিজেপি জিতেছে এমন বহু আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

নির্বাচনের আগে প্রায় ২.৭ মিলিয়ন ভোটারকে চূড়ান্তভাবে তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয় এবং ৩.৪ মিলিয়নেরও বেশি আপিল ঝুলে থাকা অবস্থায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার সরব হলেও শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি চালু রাখার অনুমতি দিলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার হরণ চূড়ান্ত রূপ পায়। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে কাজ না করে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে মুসলিম প্রধান জেলাগুলোতে ভোটার বাতিলের হার ছিল উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যেখানে এআই-চালিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে নামের সামান্য অসামঞ্জস্য পেলেই ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির এই জয় কেবল পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক মানচিত্রকে বদলে দিয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজেপি তাদের কৌশল আমূল বদলে ফেলে। একদিকে হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলোতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী প্রচারণার মাধ্যমে মেরুকরণ তীব্র করা হয়, অন্যদিকে প্রশাসনিক ও নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধীদের ভোটব্যাংক দুর্বল করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসামের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ‘ডিলিমিটেশন’ (সীমানা পুনর্নির্ধারণ) এবং ‘এসআইআর’-এর মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র স্থায়ীভাবে বদলে ফেলার চেষ্টা চলছে।

ভয়াবহ পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনকে ‘নোংরা ও কলঙ্কিত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে বিজেপির ২০৭ আসনের এই পর্বতসম জয়ের পর তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে। সমালোচকদের মতে, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ এবং নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে মোদি সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীয়ভাবে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে, যার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের এই ফলাফলে। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর এই প্রথম ভারতের কোনো রাজ্যে এত বড় মাপের প্রাতিষ্ঠানিক ভোটার কর্তনের অভিযোগ উঠেছে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের দুই কর অঞ্চলে বড় নিয়োগ, পদ ২৫২, আবেদন শেষ ৭ জুন
  • ০৮ মে ২০২৬
শুরুর ধাক্কা সামলে স্বস্তি নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে বাংলাদেশ
  • ০৮ মে ২০২৬
বিদ্যুৎতের খুঁটি থাকলেও জ্বলে না বাতি,৩ কোটি টাকার প্রকল্প …
  • ০৮ মে ২০২৬
দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার, আবেদন…
  • ০৮ মে ২০২৬
দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে যেসব জেলায়
  • ০৮ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান ও ভারতীয় গণতন্ত্রে নতুন মেরুকরণ
  • ০৮ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9