শিশু সুরক্ষায় বয়স যাচাই অ্যাপ আনছে ইউরোপ © সংগৃহীত
অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন বয়স যাচাই অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করেই নিজের বয়স প্রমাণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন এই অ্যাপটি মূলত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা এতে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র আপলোড করে বয়স যাচাই করতে পারবেন। তবে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্য সরাসরি দেখতে পারবে না; শুধু নির্দিষ্ট বয়সসীমার ওপরে বা নিচে আছেন কি না, সেই তথ্যই জানানো হবে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বয়স যাচাই নিয়ে আর অজুহাত দেখাতে পারবে না। কারণ একটি কেন্দ্রীয় সমাধান তাদের সামনে থাকবে, ফলে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আলাদা করে তথ্য সংগ্রহের চাপও কমবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যাতে তারা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে।
এরই মধ্যে কিছু দেশ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-এর কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বয়স যাচাই ও অভিভাবকের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার আইন পাস হয়েছে।
তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বয়স যাচাই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করলে গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যাপ স্টোর বা প্ল্যাটফর্মগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে এই তথ্য সংরক্ষণ করতে হলে তা আরও জটিল হয়ে উঠবে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নতুন অ্যাপটি একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে সামনে আসছে। এতে ব্যবহারকারীর তথ্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়বে না; বরং একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন হবে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, অ্যাপটি প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের আইন অনুযায়ী অ্যাপটি কাস্টমাইজ করতে পারবে।
ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন অ্যাপটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলেও বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করলে সেটি সমান কার্যকর প্রমাণ করতে হবে, না হলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে অনলাইন নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে গোপনীয়তা বজায় রেখে বয়স যাচাইয়ের একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে।