হরমুজ প্রণালি © সংগৃহীত
ইরানের সাথে ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (১২ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ (ব্লকেড) শুরু করবে।
একইসঙ্গে যেসব জাহাজ ইরানকে টোল পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করবে, সেগুলোকে মার্কিন বাহিনী বাধা প্রদান বা আটক করবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে চাওয়া বা প্রণালি থেকে বের হতে চাওয়া যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে আমরা অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছি।’
ইসলামাবাদের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘বৈঠকের অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 'পারমাণবিক' ইস্যুটিতে কোনো সমঝোতা হয়নি।’ মূলত এই বিরোধের জের ধরেই তিনি এই কঠোর সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিলেন।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের কাছ থেকে ব্রিফিং নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, শনিবারের ওই বৈঠকে অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’। ট্রাম্পের মতে, সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো প্রস্তাব টেবিলে ছিল, কিন্তু ইরান পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথ পরিহার করতে রাজি না হওয়ায় কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ‘এমন অস্থির এবং অনির্ভরযোগ্য মানুষের হাতে পারমাণবিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ থাকতে দেওয়ার চেয়ে অন্য কোনো সমঝোতাই বড় নয়।’ এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টাকে ওয়াশিংটন এখন তাদের জন্য প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।