বিশ্ববাজারে কমল তেলে দাম © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার এশিয়ার প্রারম্ভিক লেনদেনে তেলের দাম হঠাৎ করেই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১৩.৯৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩.০১ শতাংশ কমে ৯৫.০৫ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরই বাজারে এই বড় ধরনের দরপতন ঘটে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল পুনঃস্থাপন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি হবে দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি।’ এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানা না হলে ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’—যা থেকে এই ঘোষণা একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নিশ্চিত করেছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে তেহরানও তাদের আক্রমণ বন্ধ করবে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ইরানি বাহিনীর সমন্বয়ে নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির পর বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
যদিও এই অগ্রগতির পরও পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, ড্রোন তৎপরতা এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা সতর্কতা জারির তথ্য জানিয়েছে।
তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির পর তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি সফল হোক বা না হোক, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি সামনের দিনগুলোতেও উচ্চ পর্যায়েই থাকবে এবং এর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বড় একটি ফ্যাক্টর হয়ে থাকবে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার দিকে আলোচনা এগোচ্ছে। তিনি ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উভয় পক্ষকে আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যেখানে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও অস্থিরতা কাটছে না। ব্যবসায়ীরা এখন পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন, বিশেষ করে নতুন এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে সেটিই বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।