ইরানের বিজয়ের দাবি, আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র ‘শর্ত মেনেছে’: এসএনএসসি

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ AM
ইরানের রাজধানী তেহরান

ইরানের রাজধানী তেহরান © সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং এতে শত্রুপক্ষ একটি ‘ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত পরাজয়ের’ মুখে পড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অবৈধ ও অপরাধমূলক’ যুদ্ধে শত্রুর এই পরাজয় অনস্বীকার্য।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে স্থানীয় সময় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই বিবৃতির তথ্য জানানো হয়। 

বিবৃতিতে ইরানের এই বিজয়ের পেছনে শহীদ নেতাদের আত্মত্যাগ, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের ভূমিকা, ফ্রন্টলাইনে যোদ্ধাদের সাহসিকতা এবং যুদ্ধের শুরু থেকেই জনগণের সক্রিয় উপস্থিতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসবের ফলেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

এসএনএসসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ১০ দফা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়া, সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সব প্রস্তাব বাতিল, ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ প্রতিরোধ জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের মতো শর্তে সম্মত হয়েছে।

আরও পড়ুন: হামলা স্থগিত ট্রাম্পের, ২ সপ্তাহের জন্য হরমুজ খুলতে সম্মত ইরান

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪০ দিনে ইরান ও লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা শত্রুপক্ষের ওপর এমন আঘাত হেনেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এতে দাবি করা হয়, ইরান ও তার মিত্ররা শত্রুর সামরিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে, ফলে শত্রুপক্ষ এখন আত্মসমর্পণ ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখছে না।

এসএনএসসি আরও উল্লেখ করে, যুদ্ধের শুরুতে শত্রুরা ধারণা করেছিল অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে সামরিকভাবে পরাস্ত করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা যাবে। তারা বিশ্বাস করেনি যে, ইরান সীমান্তের বাইরে পুরো অঞ্চলে শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

বিবৃতিতে ‘বিশ্বব্যাপী জায়নবাদ’কে অভিযুক্ত করে বলা হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং ইরানকে ধ্বংস করে দেশটিকে বিভক্ত করে তার সম্পদ লুট করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ইরান ও প্রতিরোধ জোট ঐক্যবদ্ধভাবে সেই পরিকল্পনা ভণ্ডুল করেছে।

এতে বলা হয়, শহীদ নেতার মৃত্যুর শোক সত্ত্বেও ইরানের যোদ্ধারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে শত্রুকে শিক্ষা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয় এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের চিন্তাও না করে।

এসএনএসসি দাবি করে, ইরান ও তার মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সম্মিলিত যুদ্ধ পরিচালনা করে এবং তাদের নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্য অর্জন করেছে। এতে বলা হয়, শত্রুপক্ষ যুদ্ধ শুরুর প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই বুঝতে পারে যে তারা জিততে পারবে না এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগ শুরু করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে শত্রুপক্ষ যুদ্ধ বন্ধের জন্য অনুরোধ জানালেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে, কারণ শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে ৪০তম দিনে এসে ইরান দাবি করছে, তাদের অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং শত্রুকে ‘ঐতিহাসিক হতাশা ও পরাজয়ের’ মুখে ফেলা হয়েছে।

এ অবস্থায় ইরান জানিয়েছে, অর্জিত সাফল্য সুসংহত করতে এবং নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

এসএনএসসি জানায়, সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পরামর্শ ও পরিষদের অনুমোদনক্রমে যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের প্রাধান্য এবং শত্রুর অক্ষমতার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়কে রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রিত চলাচল নিশ্চিত করা, প্রতিরোধ জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল প্রতিষ্ঠা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং এসব বিষয়ের আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতিগত শর্তগুলো আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

এসএনএসসি আরও জানায়, আগামী শুক্রবার ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, যা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এবং প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময় বাড়ানো হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; বরং ১০ দফা পরিকল্পনার সব শর্ত চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলেই কেবল যুদ্ধ শেষ হবে।

বিবৃতিতে দেশটির জনগণকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই আলোচনা মূলত যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা এবং এটি জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি প্রক্রিয়া। কোনো ধরনের বিভেদমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সবশেষে এসএনএসসি সতর্ক করে জানায়, যদি আলোচনায় শত্রুর আত্মসমর্পণ নিশ্চিত না হয়, তাহলে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সব দাবি পূরণ হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের সামান্যতম ভুলেরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৫ শ্যালো মেশিন ধ্বংস
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল অনার্স ভর্তি আবেদনের সময় বা…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল বায়ার্ন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান, কী আছে এতে?
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ১০০ শতাংশ বৃত্তির সুযোগ 
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’, বায়ুদূষণে দ্বিতীয়
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close