পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুদ্ধের শান্তি পরিকল্পনা ভেস্তে গেল!

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৮ AM
মোজতবা খামেনি, শাহবাজ শরিফ, ট্রাম্প

মোজতবা খামেনি, শাহবাজ শরিফ, ট্রাম্প © সংগৃহীত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের জন্য নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে তেহরান অনীহা প্রকাশ করায় শান্তি পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। সংলাপ ও কূটনীতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির যে উদ্যোগ পাকিস্তান নিয়েছিল, তা আপাতভাবে ব্যর্থ হতে চলেছে। 

ইরানের সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য নিজেদের কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে আগ্রহী নয়।

প্রতিনিধি পাঠাতে ইরানের এই অনীহার কারণে ইসলামাবাদে মার্কিনি ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রত্যাশিত শান্তি সংলাপ এবং বৈঠক কার্যত বাতিল হয়ে গেলো। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সংলাপের ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এমনকি হরমুজ প্রণালি থেকে যদি ইরান অবরোধ তুলে নেয়, তবে দেশটিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবে যুক্তরাষ্ট্র— এমন একটি প্রস্তাবের খসড়াও তারা প্রস্তুত করে ফেলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১ এপ্রিল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধবিরতি চেয়েছেন এবং তার বিনিময়ে তিনি হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিতে প্রস্তুত। তবে এর পরের দিন ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের এই পোস্টের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দাবি ভুয়া এবং ভিত্তিহীন।’

ইরানের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ইসলামাবাদের বৈঠকে কোনো প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন না। তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শান্তি-প্রস্তাবে ইরানের কাছে যেসব দাবি-দাওয়া তুলেছেন— সেসবের অধিকাংশই তেহরানের কাছে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। অপর দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার কিছুদিন পর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই তিন দেশের মধ্যে মধ্যস্থতায় নামে পাকিস্তান। পরবর্তী সময়ে মিসর এবং তুরস্কও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মুখ্য ভূমিকায় ছিল পাকিস্তানই। মূলত মার্কিন কর্মকর্তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েই পাকিস্তান এই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।

মার্চের প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক গোপন চ্যানেলে যোগাযোগ রাখছিলেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। তারপর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানকে ১৫টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সরাসরি সংলাপের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে ইসলামাবাদে সেই সংলাপ শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সন্ধ্যায় দেশে ফিরছে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
জীবননগরে খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ফরিদপুরে আট গ্রামের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত দুই শতাধিক
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে আবেদনের সুযোগ শেষ হচ্ছে রাতে
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
যাত্রাবাড়ীতে উল্টোপথে আসা ট্রাকের চাপায় নিহত ২
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৬ পদে জয়ী বিএনপি, জামায়াত-আ.লীগ সম…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬