মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চেষ্টার পর দেশটির প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই হামলা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (২১ মার্চ) নাতাঞ্জে অবস্থিত শহীদ আহমাদি রোশন সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা।
তারা বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অপরাধমূলক হামলা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন চুক্তির লঙ্ঘন। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই হামলার পর পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা বা বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরান এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে নাতাঞ্জকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো ইরানের পরমাণু সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা।
রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও হামলার শিকার হয়েছিল। তখন স্যাটেলাইট ছবিতে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের সংঘাতেও নাতাঞ্জে হামলা হয়েছিল, পরে যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে আঘাত হানে।
এদিকে নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ ‘বিপর্যয়’ ডেকে আনতে পারে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপের একটি বস্তুনিষ্ঠ এবং কঠোর মূল্যায়ন করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রকৃত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে।’