মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি © সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ ও স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কোনো অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি, সামরিক সম্পদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে এ সতর্কবার্তা দেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর না করে, তাহলে সম্ভাব্য সংঘাতে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে।
চিঠিতে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইরাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন যুদ্ধবাজ মন্তব্য সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে গভীর ও সুদূরপ্রসারী হুমকির মধ্যে ফেলবে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ইরান সবসময় কূটনৈতিক পথের প্রতি আস্থাশীল এবং শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো অস্পষ্টতা দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই, নিরাপত্তা পরিষদ সক্রিয় ভূমিকা নিক এবং এর স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যে আইনবহির্ভূত হুমকি দিচ্ছে, তা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করুক।’
ইরাভানি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি তা না ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশের অখণ্ডতা, জনগণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনাঘাঁটি, সম্পদ ও অবকাঠামো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে। ওমানের রাজধানী আম্মানে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। পরবর্তী দফার বৈঠক শুরু হয়েছে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভা-য়, তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানকে চাপে রাখতে জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সমঝোতায় না এলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে। কয়েক দিন আগে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর প্রতিক্রিয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে সেখানে সামরিক মহড়া শুরু করে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
এদিকে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, তেহরানের হাতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। এর মধ্যে সমঝোতায় না এলে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। [সূত্র: এএফপি]