ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নেপথ্য যা জানা যাচ্ছে

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৫ PM , আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২২ PM
ভেনেজুয়েলায় হামলা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প কোলাজ

ভেনেজুয়েলায় হামলা ও ডোনাল্ড ট্রাম্প কোলাজ © সংগৃহীত

আজ ভোরে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ ও শহরের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভাঙে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দাদের । এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরের হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাকে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে দেওয়া এ ঘোষণাটি ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাস ধরে চলমান চাপেরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ওই সরকারকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদক পাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কৌশলে এক নাটকীয় মাত্রা যোগ হলো।

কেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে—অবৈধ অভিবাসন, মাদক পাচার এবং তথাকথিত ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনের জন্য দায়ি করে আসছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, যাদের অধিকাংশই লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে কোনো ধরনের নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করেই ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশের কারাগার ও মানসিক হাসপাতাল থেকে বন্দিদের বের করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে বাধ্য করেছেন। এ অভিযোগ ভেনেজুয়েলা সরকার সরাসরি অস্বীকার করেছে।

মাদক পাচারকে দ্বিতীয় বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফেন্টানিল সংকটেও দেশটির ভূমিকা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার দুটি অপরাধী চক্র‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ ও ‘কার্তেল দে লস সোলেস’ কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন, ‘কার্তেল দে লস সোলেস’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মাদুরো যা কারাকাস সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাজধানী কারাকাসে হামলা
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী স্বল্প সময়ের এক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে গেছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অংশ নেয়। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযানের পরিকল্পনা ও এতে অংশ নেওয়া সেনাদের প্রশংসা করেন।

কারাকাসে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সামরিক স্থাপনার আশপাশে বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আকাশে বিমান উড়তে দেখা গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) যাচাইকৃত ভিডিওতে শহরের আকাশে ট্রেসার গুলি ও ধোঁয়া এবং উপকূলীয় আরেকটি এলাকায় একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলে সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানায়।

সুত্র: এনডিটিভি

জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর পোস্ট, …
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেরপুরের ঘটনার রেশ ধরে ঢাবিতে বিএনপির শীর্ষ নেতার নামে স্লো…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কর্ণফুলীতে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মিরসরাইয়ে এক সপ্তাহে ৭ স্থানে আগুন, রাত জেগে গ্রাম পাহারা
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুই প্রভাষক নিয়োগ দেবে ঢাবির মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, আবেদন শেষ …
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির এক ব্যবসায়ী
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬