প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটারের বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা, নিতে হয় না ইউ-টার্ন

২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৪ PM
বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা

বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা © সংগৃহীত

ভাবুন এমন একটি সড়কের কথা—প্রতিদিন গড়ে ৫০০ কিলোমিটার করে এগোলেও যার শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে লেগে যাবে দুই মাসেরও বেশি সময়। বিস্ময়ের বিষয়, এই দীর্ঘ যাত্রাপথে কোথাও একবারও ইউ-টার্ন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুনতে কল্পনার মতো লাগলেও এটি একেবারেই বাস্তব—এই সড়কটির নাম প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে। টানা ১৪টি দেশের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত এই মহাসড়ককে বিশ্বের দীর্ঘতম মোটরযান চলাচলযোগ্য রাস্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ের শুরু উত্তর আমেরিকার আলাস্কার ‘প্রুডো বে’ থেকে। সেখান থেকে এটি ছুটে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার একেবারে শেষ প্রান্ত আর্জেন্টিনা পর্যন্ত। প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে একটি অবিচ্ছিন্ন স্থলসংযোগ তৈরি করেছে।

এই মহাসড়কটি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো হয়ে মধ্য আমেরিকায় প্রবেশ করে। এরপর এটি মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা ও পানামা পেরিয়ে পৌঁছায় দক্ষিণ আমেরিকায়। সেখানে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলি এবং আর্জেন্টিনার ওপর দিয়ে এর বিস্তার। যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর অংশে এই হাইওয়ের একাধিক বিকল্প রুটও রয়েছে।

সাধারণভাবে পুরো প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে অতিক্রম করতে একজন ভ্রমণকারীর প্রায় ৬০ দিন বা দুই মাস সময় লাগে। তবে যানবাহনের গতি ও যাত্রাপথে বিরতির ওপর এই সময় কমবেশি হতে পারে। যেমন, কার্লোস সান্তামারিয়া নামের এক পর্যটকের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছিল ১১৭ দিন।

পরিবেশ ও ভাষার বৈচিত্র্য

এই একটিমাত্র যাত্রাপথেই দেখা মেলে পৃথিবীর নানা রূপের—কোথাও ঘন রেইনফরেস্ট, কোথাও বিস্তীর্ণ মরুভূমি। যেহেতু এই মহাসড়কের বড় একটি অংশ স্প্যানিশভাষী দেশগুলোর ভেতর দিয়ে গেছে, তাই ভ্রমণের আগে সামান্য স্প্যানিশ জানা থাকলে অভিযাত্রা আরও সহজ ও উপভোগ্য হয়।

ইতিহাসের পাতায় প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে

প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে নির্মাণের ভাবনা শুরু হয় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে। যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই মূলত এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ এই মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ শেষে ১৯৬০ সালে এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালে হামলার প্রতিবাদে ফের বিক্ষোভের ডাক
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
উইকিপিডিয়া প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় সালাহউদ্দিন আহমেদ, পরে সংশ…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
মহাসড়কে একে একে চার গাড়ির সংঘর্ষ, থেতলে গেল চালক-পথচারীর পা
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সহায়তা…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় বৃদ্ধের মৃত্যু
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close