প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জীবনকে ঝুকিতে ফেলতে যাচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়া বিষয়ক চরমাবস্থা এল নিনো। অঞ্চলটিতে সৃষ্ট সুপার এল নিনোর প্রভাবে আগামী ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ অতিরিক্ত তাপজনিত কারণে মারা যেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য এ হিসাব করা হয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের
জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে বাড়তে থাকা তাপমাত্রায় যেসব অকালমৃত্যু হচ্ছে, এই হিসাবের মধ্যে সেগুলো ধরা হয়নি। বরং এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত যে তাপ তৈরি হবে, তার প্রভাবে সম্ভাব্য মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি খরা, দাবানল ও বন্যার ঘটনাও বাড়তে পারে। ফলে তাপজনিত মৃত্যুর বাইরেও আরও প্রাণহানি হতে পারে।
গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে মাসভিত্তিক তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ভারত ও ব্রাজিলে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২০টি দেশের তালিকায় রয়েছে। দেশটিতে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ‘৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যুর এই হিসাবটি এত বড় যে তা অসাড় করে দিতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে বাবা-মা, সন্তান, দাদা-দাদি, প্রতিবেশী, কাজে যাওয়া এবং পরিবারের যত্ন নেওয়া মানুষ রয়েছেন।’
গবেষকদের হিসাবে মৃত্যুর এই পূর্বাভাস সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য। তবে তাপজনিত মৃত্যুর উচ্চ হার ২০২৭ সালের জুন বা জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। বর্তমানে যে এল নিনো দেখা দিয়েছে, তা এর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কয়েক মাস আগেই এ ঘটনার আগের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কেলির গবেষক টামা কার্লেটন বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নিলে এ বছর অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তবে আগামী ২০ বছরে আজকের চরম তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবন রক্ষার ব্যবস্থা এখনই তৈরি ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
এল নিনোর প্রভাবে খাদ্য সরবরাহেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, এর প্রভাবে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন এবং খাদ্যের দামও বাড়তে পারে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, বর্তমান এল নিনো জলবায়ু ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ শক্তির পুনর্বণ্টন ঘটাচ্ছে। মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে ইতিমধ্যে উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ুর ওপর এটি সংঘটিত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আগে দেখা যায়নি এমন তাপমাত্রার চরম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও পানির ওপর।