তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের বিকল্প
নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন © এআই সৃষ্ট ছবি
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ব ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিও ব্যাপক অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এবং ভবিষ্যত জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নবায়ানযোগ্য জ্বালানির উপর জোর দিচ্ছে। এজন্য সৌর শক্তি, বায়ু ও বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকার কাজ শুরু করেছে। এরইমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বর্তমান ৫-৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ করতে জ্বালানি নীতি-২০২৫ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ প্রসঙ্গে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার সোলার প্যানেল থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। দেশের জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করতে সরকার সোলার প্যানেল তথা সৌরবিদ্যুৎ খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসগুলো বারবার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এসব উৎস ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হয়। অন্যদিকে খনিজ জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়। এ হিসেবে বিকল্প জ্বালানি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন। এছাড়া বিশ্ব বাজারে তেল-গ্যাসের দাম এখন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় নবায়ানযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারলে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
দেশে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডভুক্ত এবং গ্রিডের বাইরে মিলিয়ে ১৮২৫ দশমিক ৮ মেগাওয়াট বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণের সক্ষমতা রয়েছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.৪ থেকে ৫.৬ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫২৯ দশমিক ১০ মেগাওয়াট।
জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ও ভুটান নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে এগিয়ে আছে। ভুটানে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতভাগ আসে জলবিদ্যুৎ থেকে। নেপালে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯৯ দশমিক ৭০ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫১ দশমিক ৫০ শতাংশ আসে জলবিদ্যুৎ সৌরশক্তি ও বায়ু বিদ্যুৎ থেকে। আর পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনর হয়। এদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বর্তমানে প্রায় ছয় শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডভুক্ত এবং গ্রিডের বাইরে মিলিয়ে ১৮২৫ দশমিক ৮ মেগাওয়াট বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণের সক্ষমতা রয়েছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.৪ থেকে ৫.৬ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫২৯ দশমিক ১০ মেগাওয়াট।
দেশের বিকল্প জ্বালানির প্রায় ৮৩ ভাগই আসে সৌরশক্তি থেকে। এর মধ্যে সোলার পার্ক বা বড় বাণিজ্যিক প্রকল্প থেকে ৭৪৫ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট, কারখানার ছাদ থেকে ৩৩৯ দশমিক ৯৮ মেগাওয়াট, গ্রামীণ গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে ২৬৩ দশমিক ৬৫ মেগাওয়াট, সেচ পাম্প থেকে ৫৮ দশমিক ৯৭ মেগাওয়াট এবং রাস্তার বাতি, টেলিকম টাওয়ার ইত্যাদি উৎস থেকে ১২১ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের অন্যতম পুরোনো ও বড় পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস। কক্সবাজারের খুরুশকুলে দেশের প্রথম বড় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বর্তমানে অন-গ্রিডে ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া বায়োগ্যাস ও বায়োমাস থেকে এক দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে রয়েছে।
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা চালু হলে দেশের বিকল্প জ্বালানির চিত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিকল্প উৎস থেকে নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে।
এ পরিকল্পনা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন হবে। এজন্য দেশে জমির স্বল্পতার পরিপ্রেক্ষিতে জমি-নির্ভর বড় প্রকল্পের চেয়ে অবকাঠামো ও অর্থায়নের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে ৫টি প্রধান কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা করা হয়েছে শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু রুফটপ সোলার থেকেই ৫৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অন্তত ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন হবে। এজন্য দেশে জমির স্বল্পতার পরিপ্রেক্ষিতে জমি-নির্ভর বড় প্রকল্পের চেয়ে অবকাঠামো ও অর্থায়নের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে ৫টি প্রধান কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা করা হয়েছে শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু রুফটপ সোলার থেকেই ৫৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের।
এজন্য সব সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের ছাদে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব খরচে সোলার প্যানেল বসাবেন এবং পরিচালনা করবেন। ভবন কর্তৃপক্ষ বা কারখানা মালিকরা সস্তায় সে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন।
এছাড়া অব্যবহৃত সরকারি খাস জমি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ৪৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বড় সোলার পার্ক করা হবে। বড় জলাশয় বা হ্রদের পানিতে ভাসমান সোলার প্যানেল এবং কৃষিজমি রক্ষা করে প্যানেলের নিচে চাষাবাদের বিশেষ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো হবে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডকে আধুনিক করা হচ্ছে যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওঠানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
দিনের উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ বড় ব্যাটারিতে জমা রেখে রাতে ব্যবহার করার জন্য ব্যাটারি স্টোরেজ অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য নবায়াযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে দেওয়া হচ্ছে বড় ধরনের আর্থিক ছাড়। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে স্থগিত থাকা পেমেন্ট গ্যারান্টি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম ১০ বছর সম্পূর্ণ করপোরেট কর মওকুফ এবং পরবর্তী পাঁচ বছর আংশিক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে রুফটপ সোলারের জন্য বিশেষ সবুজ ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি আমদানিতে কমানো হয়েছে শুল্ক-কর।
বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিশেষ ক্ষমতা আইনে অনুমোদিত মোট ৩১টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প অর্ন্তবর্তী সরকার বাতিল করেছিল। বাতিল হওয়া এ প্রকল্পগুলো থেকে ৩০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ৩০০ মেগাওয়াট ছিল বায়ুবিদ্যুৎ।
কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্প গুলো নতুন করে যাচাই বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়। এজন্য গত ৬ মে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন কওে বিদ্যুৎ বিভাগ। বাতিল এসব প্রকল্পের মধ্যে যেসব প্রকল্পের বিপরীতে কোম্পানী জমি ক্রয় বা অর্থায়নের ব্যবস্থা করে ফেলেছিল, সে প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
আরও খবর: আগামীতে বিচারকদের মত শিক্ষকদেরও পৃথক পে-স্কেল, ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর
এদিকে রুফটপ সোলারের সংখ্যা বাড়াতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য গ্রাহকদের ন্যায্য প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে ইউনিটপ্রতি ১০.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.৫০ পয়সা দর নির্ধারণ করেছে সরকার। ভবনের মালিক ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্থাপনা করার সুযোগ রেখে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩০০০ থেকে ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনগণকে উৎসাহিত করতে বিতরণ কোম্পানিগুলো ভর্তুকি আকারে প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করেছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নেট মিটারিং প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহক একাধারে বিদ্যুূতের একজন ভোক্তা এবং উৎপাদনকারী হিসেবে কাজ করেন। শিল্পকারখানা বা বাড়ির মালিক তার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করবেন।
দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে তার নিজস্ব যন্ত্রপাতি বা বাতি চালাতে ব্যবহার করবেন। ছুটির দিনে বা কারখানায় ব্যবহার কম থাকলে, প্যানেলের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেসকো, ডিপিডিসি বা পল্লী বিদ্যুতের গ্রিডে চলে যাবে।
বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঘোষিত প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, সরকারের পাইকারি দর প্রায় ১৩ টাকা, আর সৌর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১০.৫০ টাকায়। এতে ভবনের ছাদ ব্যবহারে উৎসাহ বাড়বে, বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।