এলএনজি: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক নির্মম বাস্তবতা

১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫২ AM
এলএনজি

এলএনজি © সংগৃহীত

এলএনজির বাস্তবতা হয়তো আমরা বুঝছি না নতুবা বোঝার মতো ক্ষমতা আমাদের নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আবু তাহের। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

ফেসবুক পোস্টে আবু তাহের বলেন, ‘২০১৬ সাল। বাংলাদেশের স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে শুরু করে। সরবরাহ ধরে রাখার নানা পরিকল্পনায় এর সমাধান নির্ধারিত হয় এলএনজি আমদানি। এরই অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে চুক্তি হয় কাতার এনার্জির সঙ্গে। শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস আমদানি। এরপর এলএনজি সরবরাহ আরো বাড়াতে ২০২০ সালে খোলা বাজার থেকেও কেনা হয় পণ্যটি। এরপর ওমানসহ অন্যান্য দেশ থেকেও আসতে শুরু হয় এলএনজি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ থেকে ২০২৬। কেটে গেছে প্রায় দশ বছর। গ্যাসখাতের সংকট আর অর্থের হাহাকার কোনটিই কমেনি। বরং গ্যাস আমদানি করতে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে এ  দেশের অর্থনীতির।’

‘২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত শুধু এলএনজি আমদানি ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার। শুরুর অর্থ বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা বছরেে ৬০ হাজার কোটিতে ঠেকেছে। ব্যয় বহুল এই পণ্যের পেছনে ভর্তুকি লেগেছে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার কোটি টাকা।’

এখানে আরেকটি বিষয় হলো- দেশে এখন পর্যন্ত দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। যার প্রত্যেকটির দৈনিক ভাড়া প্রায় তিন লাখ ডলার। পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহ না নিলেও এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে তাদের। এটাই চুক্তির বাধ্যবাধকতা।

‘২০১৮ সালে যখন দেশে এলএনজি শুরু হয়, তখন এর পেছনে বড় যুক্তি ছিল, দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ নেই, সঙ্গে সরবরাহ ঘাটতি কমিয়ে আনা।
বাস্তবতা হলো- এগুলোর কোনটাই কমেনি। বরং গ্যাসখাতে যা ঘটেছে তা হলো-গ্যাসের চাহিদা সরবরাহ ঘাটতি আরো বেড়েছে, পেট্রোবাংলা দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, অর্থের জন্য মন্ত্রণালয়ের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে, জিডিএফ ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করতে হয়েছে, সর্বশেষ বিদেশি অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান আইটিএফসির কাছ থেকে নিয়মিত ঋণ নিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এলএনজির পেছনে দৌঁড়াতে গিয়ে দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান, কূপ খনন, সাগরের বিশাল এলাকা বছরের পর বছর পড়ে থেকেছে। খুব বেশি কাজে লাগানো যায়নি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব কোম্পানি বাপেক্সকে, প্রতিবেশি দেশগুলো যখন কূপ খনন করে সাগর এলাকায় বিশাল গ্যাস পেয়েছে, বাংলাদেশ তখন এলএনজি আমদানিতে কমিশন পেয়েছে ছুটেছে পূর্বের মন্ত্রী-আমলারা।’

‘গ্যাসখাতে অর্থ সংকটের বড় কারণ হিসেবে এখনও অন্যতম কারণ ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি। এই কারণকে মোটা দাগে উল্লেখ করে বিগত সরকার দফায় দফায় দাম বাড়িয়েছে। গ্রাহক সেই দাম পরিশোধ করেছে গ্যাস পাওয়ার আশায়। অথচ নির্মম বাস্তবতা হলো-গ্যাসের সরবরাহ, দাম বাড়িয়েও বৃদ্ধি করা যায়নি। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সার, আবাসিক, সিএনজিখাত সবাই সংকটে ধুকছে। এলএনজির বাস্তবতা হয়তো আমরা বুঝছি না নতুবা বোঝার মতো ক্ষমতা আমাদের নেই।’

দেশের বাজারে কমল সোনার দাম, ভরিতে কত?
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
শুধু প্রোটিন নয়, সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই উপাদানও
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সেই নারীকে তালাক দিয়ে দেনমোহরের টাকা পরিশোধের দাবি গোলাম মা…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক দিচ্ছে রাশিয়া:…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী মাইশা নিহতের ঘটনায় লরিচালক গ্রেপ্তার
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ইরানকে হয়তো ধ্বংস করে দেওয়া হবে, শিগগিরই জানতে পারবেন: ট্রা…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950