দর্শন পরিবারের শোক © টিডিসি ছবি
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যক আগুন পাখি খ্যাত হাসান আজিজুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন পরিবার। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনকালে এ শোক প্রকাশ করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকর শোক প্রকাশ করে বলেন, সাহিত্যক হাসান আজিজুল হকের মৃত্যুতে দেশ হারালো এক প্রখ্যাত কথা সাহিত্য। তিনি দর্শন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তার মৃত্যুতে দর্শন বিভাগের এক অমূল্য সম্পদ হারিয়ে গেল। তিনি দর্শন বিভাগের এমন একজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছিলেন, যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়।
তিনি বলেন, দেশের সকল প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ছিল যথেষ্ট ভূমিকা। তিনি তার কথায় ও লেখার মাধ্যমে জাতিকে দেখিয়েছেন এক নতুন পথ। তিনি দর্শন বিভাগের গর্ব-অহংকার। তাই তাঁর দেহখানি সমাহিত হলেও তিনি আমাদের হৃদয়ের মনিকোঠায় থাকবেন চির স্মরণীয় হয়ে। তিনি চিরঞ্জীব, চির স্মরণীয় বলেও জানান তিনি।
এ কথা সাহিত্যকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা আক্তার বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশের এক নক্ষত্রের পতন হলো। একই সাথে এক মহামূল্যবান সম্পদ হারালো দর্শন বিভাগ। হারালো এক অভিভাবক। তাঁর দেখানো পথ ও নির্দেশনা পালনের মাধ্যমে দর্শন বিভাগ এগিয়ে যাবে।
এছাড়া এই কথাসাহিত্যিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারে প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি বিভাগে সপ্তাহব্যাপী শোক পালনের ঘোষণা করেন তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার যব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক এবং ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি লাগ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৪ সালে প্রফেসর হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ হিসেবে যোগদান করেন।