জঙ্গিবাদ

১৪ মামলায় সেই ঢাবি ছাত্রের ২৩৬ বছরের সাজা

০৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৪ PM
 ১৪টি মামলার রায়ে তার ২৩৬ বছরের সাজা হয়েছে

 ১৪টি মামলার রায়ে তার ২৩৬ বছরের সাজা হয়েছে © প্রতীকি ছবি

একসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পড়াশোনা শেষ করে আজ তার দেশ ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু জঙ্গিবাদে জড়িয়ে সেই স্বপ্ন এখন রুপকথার গল্পে রুপ নিয়েছে। জাবেদ জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এখন চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। ১৪টি মামলার রায়ে তার ২৩৬ বছরের সাজা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই দীর্ঘ সাজা নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

সবশেষ ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালতে বোমা হামলার মামলায় জাবেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এর আগে তার সাজার পরিমাণ ছিল ২০৬ বছর। এখন ৩০ বছর যোগ হলো।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এর আগে দেশে কোনো আসামির ২৩৬ বছরের সাজা হয়নি। বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে ৮৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি আছেন। এর আগে ১২০ বছর সাজা হয়েছিল আরেকজনের।

চট্টগ্রামে ১৪টি, কক্সবাজারে ২টি ও রাঙামাটির ১টি—মোট ১৭ মামলার মধ্যে ১৬ মামলার রায়ে জাবেদের এই কারাদণ্ড হয়। কারা সূত্র জানায়, জাবেদ ১৫ বছর আগে থেকে কারাভোগ করলেও এ পর্যন্ত হওয়া মামলার সাজায় তাকে আরও ১৫ থেকে ২০ বছর সাজা খাটতে হতে পারে।

কক্সবাজার সদর থানার খুরুসখুল এলাকার আবদুল আউয়ালের ছেলে জাবেদ। খরুসখুল দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০০০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০০২ সালে আলিম পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান থেকে আরবি বিভাগে চলে যান। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। কিন্তু ছেলে কীভাবে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন, জানেন না মা-বাবা। বাবা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘১৯ বছর বয়সে সে (জাবেদ) জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বুঝতে পারেনি। এটা ইসলাম নয়। এগুলো ইসলামের বিরুদ্ধের পথ।’

আদালত সূত্র জানায়, জাবেদ ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হন। এরপর তিনি এই আইন মানেন না, ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠার জন্য জেএমবিতে যুক্ত হয়েছেন দাবি করে সাতটি বোমা হামলার মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাবেদের বিরুদ্ধে নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের বোমা হামলায় নগরের কোতোয়ালি থানার কাজীর দেউড়ি এলাকায় আবদুল হাই নামের একজন হকার আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল জেএমবির চট্টগ্রামের তৎকালীন সামরিক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদসহ আরেক জঙ্গিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বাকলিয়া, খুলশী, পাঁচলাইশ, হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং থানার সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় করা আটটি মামলার মধ্যে সাতটিতে জাবেদকে সাজা দিয়েছেন আদালত। এরপর একে একে ১৪ বছর, ১৬ বছর, যাবজ্জীবন, ১০ বছর, ২০ বছর, ৮ বছর, ৭ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. আইয়ুব খান বলেন, বোমা হামলার একটি মামলা বিচারাধীন থাকাকালে জাবেদ নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন উল্লেখ করে আদালতে চার পৃষ্ঠার চিঠি দেন ২০১৩ সালে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এত দিন ভুল পথে ছিলেন। কেউ যাতে ইসলামের নামে এভাবে ভুল পথে পা না বাড়ায়। বিচার চলাকালে নিজের ভুল স্বীকার করে একাধিকবার আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জাবেদ ক্ষমা চান বলে জানান সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মনোরঞ্জন দাশ।

তবে আদালতে আপিল করেছে অভিযুক্তের বাবা। তিনি বলেন, বয়স কম থাকায় তার ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ানো হয়েছে। কোনো মা-বাবা চান না ছেলে জঙ্গিবাদে জড়াক। এখন তার ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকেও জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
গোপালগঞ্জে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হাম, আতঙ্কে অভিভাবকরা
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
অফিসার/সিনিয়র অফিসার নিয়োগ দেবে মেঘনা গ্রুপ, আবেদন শেষ ৮ এপ…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
অর্থসংকটে জাবিতে ভর্তিতে অনিশ্চয়তায় তিন মেধাবী শিক্ষার্থী
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশে এলো আরও ৩৪ হাজার টন জ্বালানি তেল
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনে ডিপিডিটি-বিউএফটি…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬