রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ফটো
আবাসিক হল বন্ধ রেখেই করোনার আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যার ফলে পরীক্ষা দিতে রাজশাহী আসতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হল খোলা না থাকায় আবাসন সংকটসহ নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এমতাবস্থায় আবাসন সমস্যার সমাধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খোলার জোর দাবি তুলেছেন তারা।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন শেখ বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে, কিন্তু হল ও পরিবহন সেবা বন্ধ রয়েছে। আবার ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকার মেঘগুলোতে সীট ফাঁকা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে কোথাও থাকতে হচ্ছে। যা অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল, কষ্টসাধ্য ও নিরাপত্তাহীন বিষয় হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
আবাসন সংকটের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল না খুলে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবাসনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে অনেক খুঁজেও কোন মেস পেলাম না। এমন সমস্যায় প্রতিনিয়ত অনেকে পড়ছেন বলে জানান তিনি।
মিঠুন সরদার বলেন, প্রশাসন হয়তো ভাবছেন শুধু চতুর্থ বর্ষের আর মাস্টার্স এর পরীক্ষার্থীরা রাজশাহী এসে পরীক্ষা দিয়ে আবার চলে যাবেন। কিন্তু বাস্ত চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। রাবি, রুয়েট, রামেক, রাজশাহী কলেজসহ অন্যান্য সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ইতোমধ্যে চলে এসেছেন। ফলে একদিকে মেস সংকট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে ফরম পূরণ, থাকা-খাওয়া ও মেস ভাড়াসহ অতিরিক্ত টাকা অগ্রিম দিয়ে শিক্ষার্থীদের রাজশাহীতে টেকা মুশকিল হয়ে উঠেছে বলে জানান এ শিক্ষার্থী।
এছাড়াও যে গুটিকয়েক মেস ফাঁকা রয়েছে, সেখানে উঠতেও রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে। কেননা, মেসে উঠতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াসহ বিভিন্ন শর্ত। যা করোনার এই দুর্দিনে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়া হোক।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লিয়াকত আলী জানান, শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো শুরু করেছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট হওয়ার কথা নয় বলে জানান তিনি।
মেস ভাড়া নিয়ে ভোগান্তির বিষয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন বাসার বিভিন্ন নিয়ম থাকে। সবার বিষয়ে জানা তো প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া ইতিপূর্বে মেস মালিক সমিতির সাথে আলোচনা করেছি। প্রয়োজনে আবার কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।
এছাড়া স্বাস্থ্য বিধি মেনে কিভাবে আবাসিক হলগুলো দ্রুত খোলা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সুতরাং দ্রুতই আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাস খোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রক্টর।
এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের হল ও পরিবহন ভাড়া মওকুফসহ আবাসন সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট করোনায় স্থগিত হওয়া সকল পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে।