গাছতলায় পাঠদান করছেন রাবি শিক্ষক © টিডিসি ফটো
ঘোষণা দিয়ে গাছতলায় ক্লাস নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সোমবার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে সশরীরে এ ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব ঘোষণ অনুযায়ী, এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ক্লাসে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন। পরে বেলা ১১টায় এ ক্লাস শুরু হয়। ক্লাসে বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে গত শুক্রবার ও শনিবার আরও তিন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সশরীরে ক্লাস নেয়ার ঘোষণা দেন। ক্লাস রুম বন্ধ থাকলে খোলা মাঠে ক্লাস নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ক্লাসে ড. মামুন সাংবাদিক ও সাংবাদিকতায় মোরালিটি নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমান সময়ে সংবাদ ও সাংবাদিকদের অবস্থার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মানসিকতা এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো নিয়ে তিনি ক্লাসে কথা বলেছেন।
ক্লাস শেষে ড. আব্দুল্লাহ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটা আমাদের প্রতীকী ক্লাস। সপ্তাহে প্রতি সোমবার এবং মঙ্গলবার এ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এ দুইদিন আমরা আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাবো। আমাদের শ্রেণীকক্ষে যাওয়ার সুযোগ না হলে আমরা এভাবে গাছতলায় ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে নেবো।
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার যে অনলাইন ক্লাসের কথা বলছেন সেটা আসলে একটা অকার্যকর পদ্ধতি। আমাদের প্রতীকী ক্লাসের মাধ্যমে সরকারকে সে বার্তাটা দিতে চাই। ইউনিসেফ-ইউনেসকো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা বলেছে। কিন্তু সরকার তো সেটাও শুনছে না। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে তো আমরা শ্রেণীকক্ষেই পাঠদান করাতে পারবো।
এদিনের ক্লাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক আমিরুল ইসলাম কনকসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত শুক্রবার ও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর পর পোস্ট দেয়ার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রতিবাদে গাছতলায় ক্লাস নেয়ার ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৩ জন শিক্ষক। তারা হলেন- ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখার আলম মাসউদ এবং ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কণক।