থমকে আছে রাবির 'শিক্ষক প্রশিক্ষণ' সেন্টারের কার্যক্রম © সংগৃহীত
উত্তরবঙ্গে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পাদনের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্টার অফ এক্সেলেন্স টিচিং এণ্ড লার্নিং। তবে প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখানে তেমন কোন কার্যক্রম সম্পাদন হয়নি। সেন্টারে নেই কোন সচল অফিস। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টার সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাই নেই অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীর!
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের এক সভায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের দিকনির্দেশনায় দেশের ৬ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স টিচিং এণ্ড লার্নিং প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় উত্তরবঙ্গ তথা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে প্রতিষ্ঠিত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হাব হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স টিচিং এণ্ড লার্নিং।
প্রতিষ্ঠার পর এই সেন্টারে সর্বপ্রথম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তথা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এছাড়া পরে সেখানে উত্তরবঙ্গের আরো ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে আর তেমন কোন কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। কিছু ছোটখাটো কাজ হাতে নিলেও তা ফান্ড সংক্রান্ত সমস্যাসহ অন্যান্য বিভিন্ন কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। সেন্টারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছিল না তেমন কোন অফিস। পরবর্তীতে একটি অফিস পেলেও সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে পারে নি সেন্টারের অধিকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ লক্ষ্যে সেন্টারটির যাত্রা শুরু হলেও তেমন কোন কার্যকারী প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি। ফলে কেবল পরিচালক ও উপ-পরিচলকের তত্বাবধানে নামে মাত্র টিকে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স টিচিং এণ্ড লার্নিং!
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, সেন্টারে পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন রিয়াজী এবং উপপরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শামস বিন তারিক। এরআগে, এই সেন্টারে প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স টিচিং এণ্ড লার্নিং-এ টিচিং ম্যাথডলোজি, নতুন শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ যেমন- বেতন-ভাতা, শৃঙ্খলা, ছুটি, রিসার্চ ও বিশ্বের সনামধন্য জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধিতে কম্পিউটার ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কোর্স পরিচালনার জন্যই এই সেন্টার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর তৈরীকৃত নীতিমালা পরিবর্তীতে সকলের জন্যই কার্যকর করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।
এ বিষয়ে সেন্টারের উপ-পরিচালক অধ্যাপক শামস্ বিন তারিক জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সেন্টারের কার্যক্রম খুব ভালভাবেই শুরু হয়েছিল। এমনকি আমাদের তৈরীকৃত নীতিমালা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও কার্যকর করেছে মঞ্জুরী কমিশন। তবে পরবর্তীতে ফান্ড সংক্রান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে কাজের অগ্রগতি হারায় এই সেন্টার।
তিনি জানান, পরে একটি অফিস পেলেও সেখানে এখনও অফিসিয়াল কোন কার্যক্রম সম্পাদন সম্ভব হয়ে উঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে তোলাই মূলত এ প্রতিষ্ঠানের কাজ বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম জানান, সেন্টার টা নতুন সেজন্য মনে হয় কাজ গুলো সব গুছিয়ে উঠতে পারে নি। তবে আস্তে আস্তে তারা এটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছি। এছাড়া সার্বিক বিষয়ে সেন্টারে পরিচালক ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে পরিচালক মাহমুদ হোসেন রিয়াজীকে ফোন করা হলে এবিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।