‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো
দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে কর্মে ফিরতে চায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা তাদের পদায়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে করছেন বলে অভিযোগ তাদের। তারা বলছেন, প্রতিনিয়ত উপাচার্যের ষড়যন্ত্রের ফলে তারা বলির পাঁঠায় পরিণত হয়েছেন।
সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের দেয়া বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা আজ শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিয়োগপ্রাপ্তরা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৫ মে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহান ৭৩’র অধ্যাদেশ ১২(৫) অনুযায়ী তার উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে শূন্যপদের বিপরীতে ১৩৮ জন জনবল নিয়োগ দেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আমরা নিয়োগ পত্র হাতে পাওয়ার পর গত ৬ মে নিজ নিজ দপ্তরে যোগদান করি।
পরিতাপের বিষয় সাবেক উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হলে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা আমাদের যোগদানকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে নানা অজুহাতে আমাদের কর্মস্থলে যোগদান থেকে বিরত রেখেছেন। ৭৩’র অধ্যাদেশ মতে রুটিন উপাচার্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।
নিয়োগপ্রাপ্তরা রুটিন উপাচার্যের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে জানান, আমরা হতবাক হয়েছি রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা গত ২৪ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, যা আমাদের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনটি মিথ্যার আলোকে সাজানো এবং ৭৩’র এ্যাক্টের ভুল ব্যাখ্যায় ভরপুর। এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যায় ভরা প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ এবং উক্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
নিয়োগপ্রাপ্তরা বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে তারা বলেন, বর্তমান রুটিন উপাচার্য কর্তৃক মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত ভুল ব্যাখ্যার প্রতিবেদন এবং তার অবিরাম মিথ্যাচারে এটা প্রতীয়মান যে, তিনি যেকোন উপায়ে এই নিয়োগ বাঁধাগ্রস্থ করতে চান। আমরা মনে করি, তিনি জেনে বুঝে এসব করছেন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে আমাদেরকে বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে নিয়োগপ্রাপ্তরা জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে এবং আমাদের দ্রুত পদায়নের দাবিটি স্বার্থকভাবে সমাধানের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের তনয়া, মানবতার মা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এর আগে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে বিদায়কালে বিতর্কিত ভাবে ১৩৭ জনকে এডহকে নিয়োগ দেন সাবেক উপাচার্য আবদুস সোবহান। সেদিন রাতেই ওই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন মন্ত্রনালয়। ফলে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে সকলের নিয়োগাদেশ স্থগিত করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এছাড়াও তদন্ত শেষে নিয়োগের বেশকিছু অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ সাপেক্ষে বেশকিছু সুপারিশসহ এম আব্দুস সোবহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কমিটি। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় দিনাতিপাত করছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। তবে এখনো এবিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা আসার ফলে পদায়নের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে আসছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা।