মহামারিতে শিক্ষক নিয়োগ দুরভিসন্ধিমূলক!

জাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

মহামারির মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুরভিসন্ধিমূলক আখ্যা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দর্শন বিভাগের আট শিক্ষক।

বুধবার (৯ জুন) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর এক স্মারকলিপিতে এ কথা উল্লেখ করেন শিক্ষকবৃন্দ।

সম্প্রতি তিনটি বিজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ জন শিক্ষক ও ১০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের খবর প্রকাশিত হয়। এর একটি বিজ্ঞাপন ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ প্রকাশ হয়। যেখানে দর্শন বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে ৬ জন প্রভাষক সহ মোট ২৬ জন শিক্ষক নিয়োগের আবেদন আহবান করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, 'দর্শন বিভাগে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকসংখ্যা ও বিভাগের একাডেমিক দায়িত্বের পরিমাণ পূর্ণাঙ্গরূপে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বিভাগীয় শিক্ষাপর্ষদের সভায় তা নিয়ে আলোচনা ও মতামত নেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বিভাগীয় শিক্ষাপর্ষদের সভা আহবানের রীতি লংঘন করে ৬টি পদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সভাপতি তার পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দেবার জন্য বিভাগের দীর্ঘদিনের কনভেনশন লঙ্ঘন করেছেন। সংখ্যার বিবেচনায় এমন নিয়োগ পদক্ষেপ নজিরবিহীন।'

সেখানে উল্লেখ করা হয়, 'প্রায় ১ বছর ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার পরিস্থিতিতে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ কেবল অপ্রয়োজনীয় নয় দুরভিসন্ধিমূলক। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই অনলাইনে এ পর্যন্ত কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি, এর মাধ্যমে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। এছাড়া অনলাইন কানেকশন সমস্যার কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী অবমূল্যয়নের শিকার হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।'

প্রতিবাদি শিক্ষকবৃন্দ বলেন, 'শিক্ষার্থীদের অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নতুন (মহামারী কালীন) অধ্যাদেশ তৈরি করতে হয়েছে। যেটা একাডেমিক কাউন্সিল সিন্ডিকেট হয়ে বিভাগ এসেছে। একইভাবে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষেত্রে ফিজিক্যালি উপস্থিত হয়ে ভাইভা দেওয়ার নিয়ম। এটি অনলাইনে নিতে হলে অধ্যাদেশ পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাই পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পাশাপাশি ইউজিসিরও নির্দেশ রয়েছে শুধু প্রমোশন ও আপগ্রেডিং ব্যতিরেকে নতুন নিয়োগ অনলাইনে না নেবার জন্য।'

এ ব্যাপারে দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর বলেন, ‘বিভাগে গত ১০ বছরে কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক বিভাগে নেই, ৫ জন অবসরে বাকি ৪ জন শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে মাস্টার্সে নতুন কোর্সও চালু করা যাচ্ছে না। তাই শিক্ষক নিয়োগের অবশ্যই প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।’

কিন্তু স্মারকলিপি প্রদানকারী অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে না। কিন্তু একসাথে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ কোন ভাবেই যুক্তিসঙ্গত না। গত এক বছর ধরে বিভাগে সরাসরি কোনো ক্লাস পরীক্ষা হয়নি। কোর্স লোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষকও রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকরা আগামী বছরই চলে আসার কথা রয়েছে। এমতাবস্থায় একসাথে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ সরকারের অর্থ অপচয় বলে মনে করছি।’.

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘চেয়াম্যানের কাছে হয়তো এ বিষয়ক কোন চিঠি যেতে পারে। আমি এ ব্যাপারে জানি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, জাবিতে একাধিক বিভাগে শিক্ষক সল্পতা রয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোন বিভাগের শিক্ষকরা ছুটিতে থাকলে তাদের পরিবর্তে অস্থায়ী ২০ শতাংশ নিয়োগ দেয়া যেতে পারে কিন্তু সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ নিয়ম ইউজিসি নিয়ম বহির্ভূত।’

তিনি বলেন, 'শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই আমরা একটি বিষয় লক্ষ্য করছি। প্রত্যেক উপাচার্য মেয়াদের শেষ সময়ে এসে নিয়োগ নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন।’

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূইয়া, অধ্যাপক জাকির হোসেন, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক মনজুর এলাহী, সহকারী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ উল্লাহ।

আরও দেখুন: 

অনার্সের কোর্স ফেল করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!

চবির অবৈধ নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ, ব্যাখ্যা দাবি ইউজিসির


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ