জুলাই সনদ শুধু একটি সংবিধান নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা: আলী রিয়াজ

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৭ PM
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ © টিডিসি

দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বচ্ছ করা, ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করা এবং ভবিষ্যতে নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রিয়াজ।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ শুধু একটি সংবিধান নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপরেখা। এই সনদের মাধ্যমে দেশে জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা এবং সবার জন্য সমান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় আলী রিয়াজ আরও বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এর জন্য তিনি সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তার দাবি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও শেখ হাসিনা তা প্রত্যাখ্যান করেন। সে সময় তিনি কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দেশের মানুষ কেন ভোট দেবে, আমি যা বলব তাই করো।’ এর মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আলী রিয়াজ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীদের দিয়ে গঠন করা হতো। একইভাবে সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি)ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ছিল না। ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে বলা হতো, ‘তোমরা শুধু পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেব।’ এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলী রিয়াজ বলেন, এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে এবং বারবার প্রতারিত হয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে ফেলার। এই ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি। এজন্য সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সংস্কার প্রস্তাবগুলো তুলে ধরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে অংশ নিতে হবে।

তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা হয়তো সবাই এসব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানেন না। তবে আমি আশা করি আপনারা বুঝবেন—এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের আর কোনো উপায় ছিল না: দ…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
‎ঢাকা পরিষ্কার করতে জাপান থেকে আসছে ৩০ সদস্যের দল: ঢাবি উপা…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ককরোচ পার্টির আন্দোলনে এসে প্রাণ গেল ৭৫ বছরের বৃদ্ধের
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষাজীবনে কখনও সেকেন্ড হননি, বিসিএস ক্যাডার দুই বোনের পর …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসি পাসে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ট্রাম্পের হুমকির পর ১০ কোটি ব্যারেল তেল-ডিজেল ছাড়বে জি৭
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬