গবেষণায় দেশসেরা প্রতিষ্ঠান ঢাবি, শীর্ষ ১৫টির মধ্যে ১৪টিই বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণায় দেশসেরা প্রতিষ্ঠান ঢাবি, শীর্ষ ১৫টির মধ্যে ১৪টিই বিশ্ববিদ্যালয়
  © টিডিসি ফটো

২০২০ সালে বাংলাদেশি গবেষকরা আন্তর্জাতিক জার্নালে ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টরসহ ৮ হাজারের বেশি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল, বই ও গবেষণা সম্মেলনগুলোর তথ্য নিয়ে কাজ করা ‘স্কোপাস’ থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ নামের একটি অনলাইন ম্যাগাজিন।

জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধের পাশাপাশি সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধ, রিভিউ, বইয়ের অনুচ্ছেদ, চিঠি, নোট ও উপ-সম্পাদকীয়, তথ্য প্রবন্ধ, বই, সংক্ষিপ্ত জরিপও বিবেচনায় নিয়ে থাকে।

এদিকে, গবেষণায় দেশসেরা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে র্শীষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাছাড়া শীর্ষে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টিই বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকার শীর্ষ ৫-এ রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর, বি)।

সায়েন্টিফিক বাংলাদেশের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের গবেষকরা ১৬০টি নির্ভরযোগ্য ও স্বনামখ্যাত জার্নালে আট হাজার ১৪০টি নিবন্ধ প্রকাশ করতে পেরেছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছয় হাজার ৩৬৩টি ছিল। ২০১৮ সালে তা পাঁচ হাজার ২৩৪টি ছিল।

জানা গেছে, তালিকার র্শীষে থাকা গবেষণা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি সবোর্চ্চ ৭৬০টি নিবন্ধ প্রকাশ করতে পেরেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০০টি বেশি। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি সবোর্চ্চ ৫১০টি নিবন্ধ প্রকাশ করতে পেরেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০০টি কম।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬৫ প্রকাশনা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৪৩৭ টি প্রকাশনা নিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। আইসিডিডিআর, বি ৪১৮ টি প্রকাশনা নিয়ে ৫ম স্থান অর্জন করেছে।

এবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম দশে তার অবস্থান ফিরে পেয়েছে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিও শীর্ষ দশে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

তালিকায় বাকি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে-৬ষ্ঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ৭ম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ৮ম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ৯ম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ১০ম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ১১তম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১২তম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩তম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪তম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৫তম মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ড. মু. আলী আসগর বলেন, স্কোপাস মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের নিবন্ধগুলো প্রকাশ করে থাকেন। এতে পিউর সাইন্স ছাড়াও স্যোশাল সাইন্সের গবেষকদের নিবন্ধও প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত নিজের দুটি নিবন্ধ সেখানে প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তালিকায় ১৩তম অবস্থানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২০ সালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের গবেষণায় অবদান সত্যিই প্রসংশনীয়। আমি আমার ছাত্র-শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানানো পাশাপাশি আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানাচ্ছি।

যে আটটি জার্নালে বাংলাদেশের নিবন্ধ সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছ সেগুলো হলো- প্লস ওয়ান, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস, হেলিওন, আইইইই অ্যাক্সেস, বিএমজে ওপেন, রেজাল্টস ইন ফিজিক্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ও পলুশন রিসার্চ।

ভালো ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর রয়েছে বাংলাদেশের এমন চারটি জার্নাল হলো বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল বুলেটিন (০.০৯), বাংলাদেশ জার্নাল অব বোটানি (০.১৫), বাংলাদেশ জার্নাল অব মেডিকেল সায়েন্স (০.১৭) এবং জার্নাল অব মেডিসিন বাংলাদেশ (০.১০)।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ