সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি শিক্ষার্থীদের

২৩ আগস্ট ২০২০, ০৮:০০ PM
প্রতীকী

প্রতীকী

করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় এ ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে সরকার। এর মধ্যে দেশের সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এজন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা চাই’ নামে একটি গ্রুপও খুলেছেন। সেখানে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‍খুলে দেয়ার পক্ষে তাদের যুক্তি তুলে ধরে মতামত প্রকাশ করছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর মজুমদার অন্তু বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ৪০/৫০ বছর বয়সের মানুষরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুকিতে আছে। এসব বয়সের সব মানুষ কাজের তাগিদে বাইরে যাচ্ছে। কিন্তু যাদের ঝুঁকি কম তাদের শুধু শুধু আটকে রাখা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেয়া এখন সময়ে দাবি।

তাদের ফেসবুক গ্রুপের ডেসক্রিপশনে বলা হয়েছে, দেশের সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিক এটা আমরা চাইনা। বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া উচিৎ। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য ৫ মাস ঘরে বসে থাকা এদেশে অসম্ভব ব্যাপার। ইতিমধ্যে ১ বছরের সেশনজট হয়ে গেল। তার উপর অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ গ্রাস করছে শিক্ষার্থীদের।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার মাত্রা বেড়ে গেছে। দীর্ঘ সময় থেকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে থাকার কারণে তারা মানসিক সমস্যায় ভুগছে। যার কারণে এ আত্নহত্যার প্রবনতা দিন দিন বেড়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চায়।

এদিকে, সম্প্রতি ঘরবন্দি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবস্থা জানতে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও চলছে না। অনলাইনে ক্লাস চললেও সকল শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না।

পড়ুন: আর ঘরে থাকতে চান না শিক্ষার্থীরা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আহ্‌বান

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা যেন এক বিরল দৃষ্টান্ত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এতোদিন বন্ধ পেয়ে যেমনি পড়ার প্রতি অনিহা চলে এসেছে, তেমনি চলে এসেছে সৎ ও অসৎ সঙ্গের সংমিশ্রণ। তাই আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। আশা করি, শিক্ষামন্ত্রী সব দিক বিবেচনা করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাসনিম হাসান আবির বলেন, বর্তমান করোনা মহামারির ভেতর পাঁচ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এরই মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রায় সকল অফিস আদালত চালু হয়েছে। তাই এই পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাটা জরুরি। প্রথম পর্যায়ে স্কুল, কলেজ বন্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া উচিত। তারপর ক্রমান্বয়ে অন্যগুলো চালু করতে হবে।

তাসনিম মনে করেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক দিকটি বিবেচনায় এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেপ্টেম্বরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া উচিত।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে আরও সময় নেয়ার আহ্‌বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হয়তো করোনার সংক্রমণ আরও কমে যাবে। তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করতে চাই। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধা নেই, সেখানে হয়তো সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস কার্যক্রম চালানো যেতে পারে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে থেকে লেখাপড়া করে। সেক্ষেত্রে হলে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
ভৈরবে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপের নিচে, নিহত ৩
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
পেন্টাগনে সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার নীতি অসাংবি…
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
বিসিবির সভাপতি মানেই যেন ‘স্বেচ্ছাচারী’
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
ত্রিপুরা বিজয়, ঢাকায় বন্দী ধর্মমানিক্য ও মুর্শিদকুলীর ঈদ
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
ভিনদেশের ঈদ আনন্দ
  • ২৩ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence