© ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
নিজ বাড়িতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্র। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষে ওই ছাত্রের নাম ইমাম হোসাইন। আজ সোমবার সকালে বরিশালের উজিরপুর থানার গাজিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: করোনাকালেও থামছেনা আত্মহত্যার মিছিল— নেপথ্যে যা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রেমঘটিত কারণে হতাশা থেকেই ওই ছাত্র আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ওই ছাত্রের ফেসবুক পোস্ট এই ঘটনার ইঙ্গিত করে। তাছাড়া নিহতের সহপাঠী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সে (ইমাম) মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। সবাই তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অবশেষে সে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়।
জানা গেছে, ইমাম হোসাইনের সাথে রাজধানীর ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর প্রেমের সর্ম্পক ছিল। তবে বিষয়টি ওই মেয়ের পরিবার মেনে না নেওয়াতে ইমামের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর ইমাম মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল।
এদিকে, করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ওই ছাত্র গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন কবি জসীম উদদীন হলে।
ঢাবির ওই ছাত্রের ফেসবুকের কাভার ফটো ছিল ‘তোমাকে পাবো পাবো বলেই আত্মহত্যার তারিখটা পিছিয়ে দেই।’ আর প্রোফাইলে ছিল- ‘সিলিংয়ে ঝুলে গেলো সত্তা, নাম দিলে তার আত্মহত্যা।’
এদিকে, আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন ঢাবির ওই ছাত্র। যা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। ওই পোস্টে শুধু ‘আল-বিদা’ শব্দটি লিখেছিলেন ওই ছাত্র। যদিও ওই পোস্ট দেয়ার একদিন পর আত্মহত্যা করলেন তিনি। এর আগে দেয়া এক পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, ‘বিশ্ব-সংসার তন্ন-তন্ন করে খুঁজে এনেছি একশো আটটি নীলপদ্ম। তবুও কেউ কথা রাখেনি।’
তানভীর আহমেদ নামে ইমামের এক সহপাঠী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কারণে এটা ঘটতে পারে বলে সবাই ধারণা করছে। এ ঘটনার পর তার বাড়িতে গিয়ে বাড়ি ও ও এলাকার লোকজনের কাছ থেকে এরকম তথ্য পেলাম। তার প্রেমঘটিত ডিপ্রেশনের ব্যাপারটা অনেকের জানা ছিল।
ইমামের মামাতো ভাই আখতার হোসেন বলেন, শুনেছি ঢাকায় এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ইমাম হোসেন এটা নিয়ে এমন কাণ্ড করে বসবে ভাবতেও পারিনি আমরা।
তিনি বলেন, আত্মহত্যার সময় তার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। তারা উজিরপুর ছিলেন। গতকাল রাতেও সে বাড়িতে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খেয়েছে। সকালে বাজারে গিয়েছে, মোবাইলে টাকা পুরে অনেকের সাথে কথা বলেছে। কিন্তু হঠাৎ করে সে এ কাজ করবে কেউ ভাবেনি।
গত এক মাস ধরে ফেসবুকে তার হতাশাজনক পোস্ট তাদের নজরে এসেছিল কি না জানতে চাইলে আখতার বলেন, বিষয়টা আমাদের অনেকের নজরে এসেছিল। কিন্তু বাবা-মা তো এসব বুঝেন না। আর কেউ ভাবেনি ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া একটা ছেলে এ কাজ করবে।
এলাকার ইমামের বন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরে প্রেমঘটিত সমস্যা নিয়ে ইমাম ডিপ্রেশনে ছিল। আমরা তাকে বিষয়টি বার বার বুঝেয়েছি। কিন্তু অবশেষে সে আর আমাদের কথা রাখল না।
এদিকে, ইমাম হোসাইনের সাথে তার এক সিনিয়র আপুর মেসেঞ্জারের আলাপন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের কাছে এসেছে। সেখানে ইমাম হোসাইন লিখেছেন, ‘আচ্ছা মানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো উচিত আপু?’ জবাবে তার আপু লিখেছেন, ‘কি হয়ছে, ব্রেকাপ?’ এরপর ইমাম হোসাইন লিখেছেন, ‘যা হওয়ার আর কি। আপনার ছোট বোন বাসার চাপে পড়ে আমায় ছেড়ে দিলো। ব্রেকাপও না।’