তাসনিম সিরাজ মাহবুব
তাসনিম সিরাজ মাহবুব © টিডিসি সম্পাদিত
শ্রেণিকক্ষে নেকাব পরায় ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনার পর ‘সরি’ বলতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব। বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, তার কথা শুনে ওই ছাত্রী মন খারাপ করে ক্লাস ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি অনুতপ্ত হয়ে অবিলম্বে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ বা ‘সরি’ বলতে চেয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও প্রচণ্ড ব্যথার মধ্যে লাঠিতে ভর দিয়ে ১০ মিনিট করিডোরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত ওই ছাত্রীর দেখা মেলেনি বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ঘটনার সময়ের বিবরণ দিয়ে তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, ‘আপনি আপনার নেকাব দেখান, আপনার চোখ দেখতে চাই, মুখ দেখতে চাই’—এগুলো কিছুই বলিনি আমি। কিন্তু এটাকেই আউট অব প্রপোশন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মেয়েটা যখন বেরিয়ে যায়, তারপরে আরও কিছু ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে গেছেন; তারপরে কিছু ছাত্র-ছাত্রী আমার টেবিলের পাশে এসে আমার সাথে কথা বলছেন। আমি বললাম যে, আরেকটা মেয়ে ছিল মাঝখানে, যে কথা বলছিল; কিন্তু যে মেয়েকে নিয়ে কথা হচ্ছে, যার আপাদমস্তক কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল, সে কিছু বলেনি। আমি বললাম যে, ও কিছু না বলে ও চলে গেল কেন? কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী যারা ওখানে ছিল, তারা বলল যে, ম্যাডাম, ও মনে হয় আপনার কথায় কষ্ট পেয়েছে, তাই চলে গেছে।
তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, আমি বললাম, ‘বাবা, আমি চাই না আমার কথায় কেউ কষ্ট পাক। তোমরা যখন বলছো কষ্ট পেয়েছে, তাহলে ওকে একটু ডেকে আনো, আমি ওকে এক মিনিট সরি বলতে চাই।’ কয়েকজন মেয়ে বাইরে গেল, করিডোর ঘুরেটুড়ে এসে বলল যে, ম্যাডাম, ও এখানে নাই। আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, এক কাজ করো, ওর সাথে যদি তোমাদের কথা হয়, বল যে আমি ওকে সরি বলতে চাই।’ তখন একটা ছাত্র উঠে বলল যে, ম্যাডাম, এটার এত তাড়াহুড়ার দরকার নেই, আপনি পরের ক্লাসের আগেই বললেই পারেন। আমি বললাম, ‘না বাবা, বলব যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বলতে চাই। মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে, দরকার কি ওকে কষ্ট দেয়ার?’
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, তারপরে বেরিয়ে আসলাম ক্লাসরুম থেকে, কতদূর আসার পরে করিডোরে আমাকে কয়েকজন ছাত্রী এসে বলল যে, ম্যাডাম, ও পাশের রুমেই আছে—২০৮১-তে। ‘ওকে একটু ডেকে আনো’ বলে আমি বাকি ছাত্র-ছাত্রীদের নিকে করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। যারা আমাকে চেনেন, সবাই জানেন যে আমার সিভিয়ার আর্থ্রাইটিসের প্রবলেম, আমি লাঠি ছাড়া চলাফেরা করতে পারি না। সেই অবস্থায় লাঠিতে ভর দিয়ে প্রায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। তাকে তিনবার খবর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সে বেরিয়ে আসেনি। তখন তো আর আমার করার কিছু ছিল না, আমি পরে ওখান থেকে চলে গেছি চেয়ারের (চেয়ারম্যান) রুমে, চেয়ারকে কী হয়েছে জানানোর জন্য, কিন্তু গিয়ে উনাকে আমি আর পাইনি।