ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হল © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলে সহপাঠীর কক্ষ থেকে অর্থ চুরির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম ইসতিয়াক আহম্মেদ নিয়াজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
গতকাল (৯ অক্টোবর) সকালে হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর কক্ষ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত নিয়াজ এবং অভিযোগকারী মো. সায়মুন ইসলাম শুভ একই ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং তারা হলের পাশাপাশি কক্ষে থাকেন। চুরির ঘটনার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে নিয়াজকে ওই কক্ষে প্রবেশ করতে এবং বের হতে দেখা যায়।
টাকা চুরির অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সায়মুন ইসলাম শুভ বলেন, সকাল ১১টার দিকে তার ১ হাজার ৫০০ টাকা চুরি হয়েছে। এর আগেও একই জায়গা থেকে একইভাবে দুইবার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুভ বলেন, তারা পাঁচ থেকে সাত মিনিটের জন্য ওয়াশরুমে ছিলেন। ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে শুধু নিয়াজকেই তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সেখানে তিনি প্রায় ৫০ সেকেন্ড অবস্থান করেন। শুভর দাবি, কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগেও তার টাকা ড্রয়ারে ছিল। কিন্তু ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে তিনি টেবিলের ড্রয়ার খোলা দেখতে পান।
অন্যদিকে, টাকা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহম্মেদ নিয়াজ। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া সময়ের মধ্যে তিনি তার সহপাঠীর কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, সেটি তার ব্যাচমেটের কক্ষ। এর বাইরে টাকা চুরির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
নিয়াজ আরও বলেন, রুম থেকে টাকা হারিয়েছে এবং ওই সময়ের মধ্যে আমি ওর রুমে গিয়েছিলাম, এটা সত্যি। কিন্তু আমি টাকা নিইনি। শুধু ওই সময়ে রুমে যাওয়ার কারণেই আমাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর যথাযথ কোনো প্রমাণ নেই।
এদিকে, নিয়াজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা ছবি দেখা গেছে বলে দাবি করছেন অনেকে। এ ছাড়া তাকে শিবিরের টি-শার্ট পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে অনেকে তাকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করছেন।
তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিয়াজ। তিনি বলেন, সাদিক ভাইয়ের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে আমাকে শিবির বলা হচ্ছে। কিন্তু ডাকসুর প্রচারণার সময় ওনার সঙ্গে সবারই ছবি আছে। শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা কিংবা পরিচয় নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এক শিক্ষার্থীর জিনিসপত্র চুরির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে এখনো সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়নি।