ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে টাকা না দিয়ে ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) হলটির ক্যান্টিন মালিক মো. তৌহিদ এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্টের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্যান্টিনে ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ সামনে এলো বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, বাকি খাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে হল ছাত্র সংসদের সহায়তায় একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ক্যান্টিন মালিক মো. তৌহিদ। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল নিলয় ও মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি জানতে চাইলে হল সংসদের সদস্য ও হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহনাফ আহমেদ রাফি ২-৩ জন ছাত্রদল কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ক্যান্টিনে এসে তাকে অযাচিতভাবে অবরোধ করে শাসিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ক্যান্টিন ম্যানেজারের ভাষ্য, রাফি বলেন, ‘তারা (নিলয় ও পলাশ) হল শাখা ছাত্রদলের নেতা; হল কমিটিতেও ছিলেন। সামনের কমিটিতেও থাকবেন। তাদেরকে আপনারা চেনেন না, মূল্যায়ন করেন না। এভাবে আপনি পারবেন না (খাবার খাওয়ার পর টাকা চাইতে পারবেন না)।’
তবে ক্যান্টিন মালিকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাফি। তার দাবি তিনি সেখানে মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে রাফি জানান, হলের দু জন শিক্ষার্থী আমার কাছে ক্যান্টিন মালিকদের বিরুদ্ধে ‘রাফ বিহেভ’ (রূঢ় আচরণ) করার অভিযোগ করেন। তাই আমি ক্যান্টিন মালিককে বলেছি তারা আমাদের হলের সিনিয়র, ওদের সঙ্গে ভালো বিহেভ করবেন।’
যদিও ক্যান্টিন মালিকের অভিযোগ, ‘অবস্থা এমন পর্যায়ে গেল যে, ওনারা (২ নেতা) আসেন; টোকেন নেন না, টাকাও দেন না। খাওয়া-দাওয়া করে চলে যায়। আমি কিছু বলি না। একসময় টাকা চাইতে গেলে তারা ক্যান্টিন ম্যানেজারকে ধমক ও হুমকি-ধামকি দিয়েছে।’
তৌহিদ আরও বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে প্রভোস্ট স্যার আমাকে ডেকেছিলে। কিন্তু স্যারের কাছে যাওয়ার সময় তিনজন আমাকে ডাকেন। যারা খাবার খেয়েছিল, সেই দুজন এবং তাদের সঙ্গে একজন। আবার সেখানে ছাত্রদলের রাফি নামে একজন ছিল। তিনি হল সংসদের নেতা। তিনি বলেন, দুই বছরের সিনিয়র ভাইদের সম্মান না দিয়ে এবং তাদের কথা না শুনে কেন স্যার ডাকলে চলে যাচ্ছি। পরে স্যারের সঙ্গে কথা বলে ফেরার সময় তারা আবার আমাকে ডাকে এবং ক্যান্টিনে নিয়ে যায়।তারা নিজেদের ছাত্রদল ও কমিটির সঙ্গে থাকার পরিচয় দেয় এবং তাদের সঙ্গে কেন ভালো আচরণ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরপর তারা বলে, বিলের সময় হলে বিল দেওয়া হবে।
তৌহিদ এ-ও বলেন, ‘এরপর তারা নিয়মিত এসে খেয়ে গেলেও তিন-চার দিন ধরে কোনো বিল দেয়নি। তাদের কাছে বিল চাওয়ারও সাহস করিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। কথা বাইরে প্রকাশ পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই তিনজন আবার এসে রাগারাগি করে। তবে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। ম্যানেজার তাদের কী বলেছে, সেটাও আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ক্যান্টিন মালিকের সঙ্গে এই মর্মে একটি সমঝোতা হয়েছিল যে— ছাত্রদল নেতারা বাকিতে খাবেন এবং এটার হিসাব নিজেরা রাখবেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এটা জেনে যান। ফলে এটি পাবলিক হয়ে যায়। কারণ, ক্যান্টিনে বাকি খাওয়া ছাত্রলীগের পুরাতন বন্দোবস্তের একটা সিম্পটম (বৈশিষ্ট্য)।’