ডাকসুর নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন নির্বাচিত নেতারা। এ সময়ে তাদের কার্যক্রম মূলত রুটিন দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ডাকসুর এক বছর মেয়াদ পূর্তি উপলক্ষে নিজেদের কার্যক্রম ও জবাবদিহির প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন নির্বাচিত নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে গত এক বছরে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া ৩৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ছাত্রীদের জিমনেসিয়াম, এটুআই ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে ছয়টি আইটি প্রকল্প, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অর্থায়নে মাঠ সংস্কার, হলের খাবারের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। কিছু উদ্যোগ অনুমোদন পাওয়ার পরও আটকে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক জিমনেশিয়াম নির্মাণের উদ্যোগও বাস্তবায়নের শেষ ধাপে আটকে আছে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় মাঠের মূল জিমনেশিয়ামের ওপরের তলায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক জিমনেশিয়াম তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে নারী শিক্ষার্থীরা সীমিত সময়ের জন্য মূল জিমনেশিয়াম ব্যবহার করতে পারেন। নতুন জিমনেশিয়ামটি চালু হলে তাদের জন্য নির্ধারিত পৃথক সুবিধা নিশ্চিত হবে। তবে এটি এখনো উদ্বোধন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফাইলের বাকি প্রশাসনিক ধাপগুলো সম্পন্ন হলে জিমনেশিয়ামটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের অসহযোগিতা ও বিভিন্ন বাধায় আটকে আছে যেসব কাজ
৬৫ লাখ টাকার ছাত্রীদের জিমনেসিয়াম: ছাত্রীদের জন্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক জিমনেসিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি এখনো চালু করতে দেওয়া হয়নি বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
টুআই ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে ৬ প্রকল্প: এটুআই ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে ছয়টি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সব হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, এআই ও প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও জব ফেয়ারের উদ্যোগ রয়েছে।
বিসিবির ২ কোটি টাকার মাঠ সংস্কার: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি টাকার মাঠ সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হয়। মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সার্ভের কাজ বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের খাবার: হলের খাবারের মান উন্নয়ন ও কম দামে খাবার নিশ্চিত করতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যে খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পর এ উদ্যোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডাকসু ও হল সংসদের সমাপনী অনুষ্ঠানে পরবর্তী নির্বাচনের রূপরেখা না থাকায় ক্ষোভ, উপস্থিত ছিলেন না ভিসি
আরও যেসব উদ্যোগ আটকে আছে: স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে পাঁচটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে এ এফ রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া সংস্কার, পুকুরপাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ রয়েছে।
কাজী মোতাহার হোসেন ভবনে ক্যান্টিন স্থাপন, টেকসই বড় ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রায় ২ কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরও আটকে রয়েছে বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রেজিস্টার্ড রিকশা চালু, পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে দিয়ে দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার অনুমোদনও আটকে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর আহ্বান সত্ত্বেও ছিন্নমূল মানুষদের অপসারণ ও পুনর্বাসনের জন্য যৌথ টিম গঠন করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, লাইব্রেরি-কলাভবন সড়কের উন্নয়ন, হলগুলোতে বাগান করা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধি, আসবাব সরবরাহ, হল মসজিদ ও কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও এসি স্থাপনের উদ্যোগও আটকে আছে বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ চালু, কার্জন হলে নতুন ক্যান্টিন স্থাপন এবং প্রক্টরিয়াল অফিসের বিভিন্ন উদ্যোগও নির্বাচনের পর স্থবির হয়ে আছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি হলের মসজিদের জন্য মক্তব ও সংস্কারে ১ লাখ টাকা করে এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি বলে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।