যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ ঢাবির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন © টিডিসি ফটো
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আর গণতন্ত্রে জনগণের অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা একই জিনিস নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশ প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ২০২৬’ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, গণতন্ত্রের অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা এক জিনিস নয়। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি তার অর্থ এই নয় যে, আমরা আসলে অংশীদারত্ব পেয়েছি। অংশীদারত্ব তখনই তৈরি হবে, যখন এমন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে- যা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারীদের পরাস্ত করা গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ। সেই ধাপ আপনারা সাফল্যের সাথে অর্জন করেছেন, অতিক্রম করেছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রকৃতপক্ষেই গণতন্ত্রের উত্তরণ নিয়ে যায় কিনা, তার জন্য আপনাদেরকে সবসময় ভিজিলেন্ট থাকতে হবে, সবসময় সক্রিয় থাকতে হবে।’
‘যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি এই ভিজিল্যান্স তৈরি করতে পারবেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি এই যে ব্যবস্থা সেই ব্যবস্থা তৈরিতে অংশীদার হতে পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হবে না’, যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মেডিকেল ভর্তিচ্ছুকে ঢাকায় হত্যা করে এআই ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণ দাবি, লাশ মাটিচাপা ডিমলায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে অ্যালামনাইদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাবলিক ফান্ডে চলতে পারে না। অ্যালামনাইদের সহযোগিতা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। অ্যালামনাইরা যদি কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়ান, তাহলে এমন তৈরি করা সম্ভব, যা আমাদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কাজে লাগবে।’
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এই পুরস্কার শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের বড় স্বীকৃতি এবং আগামী দিনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা।’
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ট্রাস্ট ফান্ডের দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি দাতাদের মহৎ উদ্দেশ্য এবং ড. আলী রীয়াজের দিকনির্দেশনা নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করতে পারে, তবেই দাতারা অনুভব করবেন যে- তাঁদের অর্থ সত্যিকারের কাজে লেগেছে।’