প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ক্রিকেট খেলে প্রতীকী প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের । © টিডিসি ছবি
হল সংস্কার, খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ক্রিকেট খেলে প্রতীকী প্রতিবাদও জানান তারা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বেলা ১২টার দিকে চার দফা দাবিতে এ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো হলের চতুর্থ তলার সম্পূর্ণ ছাদ সংস্কার, ওয়াশরুমসংলগ্ন ১৯টি কক্ষের দেয়ালে টাইলস স্থাপন, হলের মধ্যবর্তী অংশে অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক নির্মাণ, হলের খেলার মাঠের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু এবং হলের চারপাশে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেষ্টনী পুনঃস্থাপন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হলের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সম্প্রসারণকাজের জন্য কামালউদ্দিন হলের একমাত্র খেলার মাঠ নষ্ট হয়ে যায়। কাজ শেষে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তাদের অভিযোগ, পুরোনো ভবন হওয়ায় বর্ষাকালে চতুর্থ তলার কক্ষগুলোতে ছাদ থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ে। পাশাপাশি ওয়াশরুমসংলগ্ন কক্ষগুলোর দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও খেলার মাঠ থাকলেও কামালউদ্দিন হলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়ে গেছে। একাধিকবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচি পালন করছেন।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবরার শাহরিয়ার বলেন, ‘হল সংসদ গঠনের আগ থেকেই এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছর ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে কাজ পিছিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৭ আগস্ট উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবন অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, খেলার মাঠের সংস্কারকাজ শুরুসহ চার দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।