২০১৯ সালের ডাকসুতে কী হয়েছিল, কে কত ভোট পেয়েছিল

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ PM , আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ PM
২০১৯ সালের ডাকস

২০১৯ সালের ডাকস © টিডিসি সম্পাদিত

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে দাঁড়িয়ে ৬ হাজার ৬৩ ভোট পেয়েছিলেন মো. রাশেদ খাঁন। সেই নির্বাচনে ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে তাঁকে হারিয়ে জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। প্রায় সাড়ে সাত বছর পর বদলে গেছে সেই ফলের হিসাব। গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব ও ডাকসুর পদ বাতিলের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া রাশেদ খাঁনকেই ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। যে নির্বাচনে রাশেদ খান ৪ হাজার ৪২১ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন, সেই নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতেই এবার তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা পর পুরোনো সেই ভোটের ফল নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

২০১৯ সালে কে কত ভোট পেয়েছিলেন
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নূর। তাঁর চেয়ে ১ হাজার ৯৩৩ ভোট কম পেয়ে দ্বিতীয় হন ছাত্রলীগের প্রার্থী ও সংগঠনটির তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তিনি পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

ভোটের হিসাবে ভিপি পদে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন স্বতন্ত্র জোট প্যানেলের প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান। তিনি পান ২ হাজার ৬৭৬ ভোট। বাম জোটের প্রার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী ১ হাজার ২১৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পান ২৪৫ ভোট।

২১ জন ভিপি প্রার্থীর মধ্যে নূর, শোভন, অরণি, লিটন ও মোস্তাফিজুর ছাড়া একশর বেশি ভোট পান মাত্র একজন। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের এস এম আতায়ে রাব্বী পান ১১২ ভোট।

এ ছাড়া ছাত্র মৈত্রীর রাসেল সেখ পান ২২ ভোট, জাসদ ছাত্রলীগের রাকিবুল ইসলাম তুষার ২৪ ভোট এবং বাংলাদেশ জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ-বিসিএলের নাইম হাসান পান ৩৯ ভোট। ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম ৭ ভোট পান জাতীয় ছাত্র সমাজের প্রার্থী নকিবুল হাসান।

জিএস পদে রাব্বানীর জয়, দ্বিতীয় রাশেদ
জিএস পদে জয়ী হন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি পান ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খানের সঙ্গে তাঁর ভোটের ব্যবধান ছিল ৪ হাজার ৪২১।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদের রাশেদ খান ৬ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। সাত বছর পর সেই রাশেদ খানই ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

জিএস পদে তৃতীয় হন স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের প্রার্থী ও সাংবাদিক সমিতির নেতা আসিফুর রহমান ত্বাসীন। তিনি পান ৪ হাজার ৬২৮ ভোট। তাঁর প্যানেলে ভিপি পদে কোনো প্রার্থী ছিল না।

অরণি সেমন্তির নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র জোটের শাফী আবদুল্লাহ ১ হাজার ৫১২ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ছাত্র ফেডারেশনের জিএস প্রার্থী উম্মে হাবীবা বেনজির পান ৬০৬ ভোট। বেনজিরের পরিবর্তে বাম জোট যাঁকে জিএস প্রার্থী করেছিল, সেই ফয়সাল মাহমুদ সুমন পান ২৪৭ ভোট।

ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান অনিক পান ৪৬২ ভোট। ছাত্র মৈত্রীর সনম সিদ্দিকী শিতি পান ৪৬ ভোট, জাসদ ছাত্রলীগের শাফিকা রহমান শৈলী ৯৫ ভোট এবং বাংলাদেশ জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ-বিসিএলের শাহরিয়ার রহমান বিজয় পান ৪৪ ভোট।

১৪ জন জিএস প্রার্থীর মধ্যে জালাল আহমেদ পান ৩০ ভোট। তিনি একসময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন।

এজিএসে সর্বোচ্চ ভোট সাদ্দামের
এজিএস পদে জয়ী হন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। ডাকসু নির্বাচনে সব পদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ ভোট পান—১৫ হাজার ৩০১টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাঁর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৪০৫।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ফারুক হোসেন ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। স্বতন্ত্র জোটের অমিত প্রামানিক পান ১ হাজার ৪৫২ ভোট। স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের আবু রায়হান খান পান ৬২৯ ভোট।

এরপর ছিলেন ছাত্রদলের খোরশেদ আলম সোহেল। তিনি পান ২৯৪ ভোট। বাম জোটের প্রার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাদেকুল ইসলাম সাদিক পান ২৮৪ ভোট। মুক্তিজোটের অনুপ রায় পান ২৫১ ভোট।

এ ছাড়া ছাত্র মৈত্রীর রহমত উল্লাহ ৪৩ ভোট, জাসদ ছাত্রলীগের জহুরুল ইসলাম ৬২ ভোট এবং ছাত্রলীগ-বিসিএলের আশরাফুল আলম ফাহিম ৯৬ ভোট পান। ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে শাহিদুল ইসলাম সবচেয়ে কম ২৩ ভোট পান।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের প্রার্থী সাদ বিন কাদের ১২ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের নাজমুল হুদা পান ৩ হাজার ৯৯১ ভোট।

স্বতন্ত্র জোটের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ৩ হাজার ৯৪২ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। বাম জোটের রাজীব কান্তি রায় পান ৭৬১ ভোট। ছাত্রদলের জাফরুল হাসান নাদিম পান ৩০০ ভোট।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের আরিফ ইবনে আলী ৯ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের মশিউর রহমান পান ৬ হাজার ৩২৩ ভোট।

স্বতন্ত্র জোটের চয়ন বড়ুয়া ৪ হাজার ১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। মাহমুদুল হাসান পান ৭৪৮ ভোট এবং বাম জোটের উলুল আমর তালুকদার পান ৫২৪ ভোট।

কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের বিএম লিপি আক্তার ৮ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের কানেতা ইয়া লাম-লাম পান ৭ হাজার ১১৯ ভোট।

স্বতন্ত্র জোটের ওমর ফারুক পান ৩ হাজার ২৬৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের শাহরিমা তানজিনা অর্নি ১০ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের হাবীবুল্লাহ বেলালী ৪ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

বাম জোটের মীম আরাফাত মানব পান ১ হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।

সাহিত্য সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের মাজহারুল কবির শয়ন ১০ হাজার ৭০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের আকরাম হুসাইন পান ৫ হাজার ১৮ ভোট।

স্বতন্ত্র জোটের আবু রায়হান খান সানন ৩ হাজার ৩৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের আসিফ তালুকদার ১০ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের নাহিদ ইসলাম পান ৩ হাজার ৫৮৪ ভোট। তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

স্বতন্ত্র জোটের ফরহাদ হোসেন ২ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের শাকিল আহমেদ তানভীর ৯ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র জোটের খালেদ মাহমুদ আকাশ ৩ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের মামুনুর রশীদ ৩ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের শামস ই নোমান ১২ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র জোটের তাওহিদ তানজিম পান ২ হাজার ৮৪৫ ভোট।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সুরকৃষ্ণ চাকমা ২ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।

সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয় পান সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের আখতার হোসেন। তিনি পান ৯ হাজার ১৯০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের আজিজুল হক পান ৮ হাজার ৮১ ভোট।

স্বতন্ত্র জোটের রহিসউজ্জামান ১ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

সদস্য পদে যত ভোট
ডাকসুর ১৩টি সদস্য পদেও ভোটের ব্যবধান ছিল বেশ বড়। নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে চিবল সাংমা সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৮৬৮ ভোট পান। রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য ১১ হাজার ২৩২, তানভীর হাসান সৈকত ১০ হাজার ৮০৫, নিপু ইসলাম তন্বী ১০ হাজার ৩৯৩ এবং তিলোত্তমা শিকদার ১০ হাজার ৪৬৬ ভোট পান।

এ ছাড়া রাইসা নাসের ৯ হাজার ৭৬৮, সাবরিনা ইতি ৯ হাজার ৪৫০, রাকিবুল হাসান ৮ হাজার ৬৭৩, নজরুল ইসলাম ৮ হাজার ৫০৯ এবং ফরিদা পারভীন ৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পান।

সদস্য পদে আরও নির্বাচিত হন মাহমুদুল হাসান, যিনি ৭ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়েছেন; সাইফুল ইসলাম রাসেল, যিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৮১২ ভোট; এবং রফিকুল ইসলাম সবুজ, যিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৫১৭ ভোট।

সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদে ফল ঘোষণা করা হয়েছিল। ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের বাইরে থাকা প্রার্থীরা জয় পেলেও বাকি অধিকাংশ পদে ছাত্রলীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পান। আর জিএস পদে ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে গোলাম রাব্বানী জয়ী হলেও ৬ হাজার ৬৩ ভোট পাওয়া রাশেদ খান সাত বছর পর এসে সেই পদে স্বীকৃতি পেলেন।

শুধু জিএস নয়, আলোচিত ছিল পুরো ফল
দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের অধিকাংশ পদে ছাত্রলীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত ফল ছিল ভিপি ও জিএস পদ নিয়ে। ভিপিতে ছাত্রলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পেয়েছিলেন নুরুল হক নূর। আর জিএস পদে জয় পেয়েছিলেন গোলাম রাব্বানী।

নির্বাচনের দিন বিভিন্ন হলে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগও ওঠে। একাধিক প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরে ওই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ও বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ক্যাম্পাস আলোচনার অংশ হয়ে থাকে।

আর সেই বিতর্কিত নির্বাচনের জিএস ফলই সাত বছর পর এসে নতুন মোড় নিল। ২০১৯ সালে ৬ হাজার ৬৩ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় হওয়া রাশেদ খান এখন সেই নির্বাচনের ঘোষিত জিএস।

সাত বছর পর কেন বদলেছে ফল
২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ী গোলাম রাব্বানীর এমফিলের ছাত্রত্ব নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে তাঁর ছাত্রত্ব অবৈধ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর একাডেমিক কাউন্সিল তাঁর এমফিলের ছাত্রত্ব বাতিল করে। একই সঙ্গে ডাকসুর জিএস পদে তাঁর অবস্থানও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট ২০১৯ সালের নির্বাচনে জিএস পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া রাশেদ খানকে ওই মেয়াদের জিএস হিসেবে ঘোষণা করে। 

এদিকে সাত বছর পাঁচ মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে রাশেদ খাঁন তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, তিনি ২০১৯ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তখনও তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ করেছিলেন। পরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পুনরায় দেওয়ার পর তদন্ত হয় এবং তদন্তে নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের তথ্য পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তাঁর ভোটারদের পক্ষ হয়ে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

ডাকসুর ইতিহাস
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ভোট গণনার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়ায় পরবর্তী কয়েক বছর আর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকসু নির্বাচনই শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

এরপর দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ের নির্বাচনে ছাত্ররাজনীতিতে ক্ষমতাসীনদের সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের বাইরে থাকা প্রার্থীদেরও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যায়।

১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালের নির্বাচনে পরপর দুইবার ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হন জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না ও আখতারুজ্জামান পরিষদের প্রার্থীরা। ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালের নির্বাচনে ছাত্রদলও বেশ কয়েকটি হলের ভিপি ও জিএস পদে জয় পায়।

১৯৮২ সালের নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান। জিএস পদে জয় পান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এরপর প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৮৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোটের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ভিপি নির্বাচিত হন। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৯০ সালে আবার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ভিপি ও জিএস—দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই জয় পায় ছাত্রদল। ভিপি নির্বাচিত হন আমানউল্লাহ আমান এবং জিএস হন খায়রুল কবির খোকন। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন কারণে ডাকসু নির্বাচন আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর আর ডাকসুর নির্বাচন হয়নি। সেই দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত ডাকসু নির্বাচন।

আদালত থেকে স্বস্তির খবর পেলেন ইমরান খান
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. ন…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশ্যে থুতু ফেললে ১০০, প্রস্রাবে ২০০ টাকা জরিমানা
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে কুয়েটে ছাত্রদলের স্লোগান, ক্যাম্পাসে র…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাতের মধ্যে ১১ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম ইপিজেড হাসপাতালে বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন ৩০ সেপ্…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬