জমকালো আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯ PM
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফুল ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফুল ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয় © টিডিসি

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনে ফুল ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

এ সময় অধ্যাপক ড. মোর্শেদা বিনতে হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, ‘তোমরা তোমাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে এখানে এসেছ। বাংলাদেশে যত বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য। পূর্ববঙ্গে অনেক আগে থেকেই এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। আমরা যেখানে স্বপ্ন দেখতে পারি না, সেখানে তোমাদের স্বপ্ন দেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পথচলার এই সূচনায় সবার জন্য শুভকামনা রইল।’

অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী শুকরিয়া বলেন, ‘আজকের এই মঞ্চে একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে কথা বলার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সত্যিই আনন্দ ও গর্বের বিষয়। অনেক স্বপ্ন, পরিশ্রম ও দোয়ার পর আমরা আমাদের স্বপ্নের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের ৭৫৩ একরে পা রেখেছি। এ জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মা-বাবা, শিক্ষক ও সব শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র শিক্ষা নগরী রাজশাহী। আর এর অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তোমাদের সাহস, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছ। এখানে তোমাদের অভিভাবক হিসেবে রয়েছেন ১২ শতাধিক অভিজ্ঞ শিক্ষক। পাশাপাশি রয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুম, বিভাগীয় ও সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। তোমরা এসব সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে কাজে লাগাবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার দীর্ঘ ঐতিহ্য ধারণ ও সৃষ্টি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তোমরা এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ। শুধু মেধা নয়, তোমাদের অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও চর্চার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। মেধার সঙ্গে পরিশ্রম ও অধ্যবসায় যুক্ত করতে পারলে পৃথিবীর যেকোনো কিছু জয় করা সম্ভব।’

শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ অবশ্যই থাকবে। তবে স্বাধীনতা কখনোই দায়িত্বহীন নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলভাবে এই স্বাধীনতার চর্চা করতে হবে।

নবীনদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আজ তোমরা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের এই অবস্থানে আসার পেছনে তোমাদের পরিবার, তোমরা নিজেরা, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বন্ধুবান্ধবদেরও অবদান রয়েছে। তোমরা আগামী চার-পাঁচ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম নবীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংখ্যা আরও কম। সেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়াটা কতটা গৌরবের, তা তোমরাই চিন্তা করতে পারো। আমি আজ এই স্টেজে উঠে আবেগাপ্লুত হয়েছি। কারণ আমার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মধ্যে আজ পর্যন্ত যত অনুষ্ঠান করেছি, তার মধ্যে আজকের অনুষ্ঠানটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে আমি মনে করছি। আমি এমন এক সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যারা আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি, যারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের হাল ধরার জন্য প্রস্তুত হতে আমাদের এই ক্যাম্পাসে এসেছে। তোমাদের আগামী দিনের পথচলা সুষ্ঠু ও সুন্দর হোক।’

এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাদেজ্জুমান মিজান, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টররা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি ও আমন্ত্রিত অতিথি এবং নবীন শিক্ষার্থীরা।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতিবিরোধী-বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠ…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি ট্রাম…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে? কারণ জানালেন চিকিৎসক
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিষেধাজ্…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
খাগড়াছড়িতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
অপহরণের পর গায়ে আগুন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন নারী ইন…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬