সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব © টিডিসি ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ভাষাহীন মানুষ ভাষা খুঁজে পেয়েছে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা' শীর্ষক সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একসময় মানুষ ভয় পেত, কিন্তু জুলাই আন্দোলন সেই ভয় ভেঙে দিয়েছে। ‘রাজাকার’ বলার যেমন পরিণতি মানুষ দেখেছে, তেমনি ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অবজ্ঞা করারও পরিণতি আজ সবাই বুঝতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সেই চেষ্টা সফল হবে না। কারণ আজ মানুষ সচেতন হয়েছে। আমরা ভাষা দিয়ে একে অপরকে যতই আঘাত করি না কেন, আওয়ামী লীগ তার আগের চেহারায় আর ফিরে আসার সুযোগ নেই।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি সংস্কারও প্রয়োজন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে শেখ হাসিনা দাবি করতেন যে দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি সংবিধান রক্ষার জন্য হয়েছে এবং তিনি আইনের বাইরে কোনো কাজ করেননি। আইনের কাঠামো ব্যবহার করেই এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করা হতো। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে আর সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র ও আইনের সংস্কার অপরিহার্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা থেকে দেশের প্রবীণ নাগরিকদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত।
গুম ও খুনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তদন্তের সময় সাক্ষীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক মানুষকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হতো; পরিবারের সদস্যরা বুঝে ওঠার আগেই তারা নিখোঁজ হয়ে যেতেন।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাহসী তরুণরাই দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান স্মরণীয় হয়ে থাকুক।
উল্লেখ্য, সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং শতাধিক শিক্ষার্থী।