প্রধানমন্ত্রী ও তার কন্যাকে নিয়ে ফটোকার্ড 

এক সপ্তাহেও উৎস শনাক্তে ‘ব্যর্থ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

০১ মে ২০২৬, ০৬:১৯ PM , আপডেট: ০১ মে ২০২৬, ০৬:২০ PM
ঢাবি লোগো ও ফটোকার্ড

ঢাবি লোগো ও ফটোকার্ড © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আলোচিত ফটোকার্ডের সত্যতা ও উৎস শনাক্তে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানা যায়, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কারণে তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের মধ্যে আমরা একটি ড্রাফট প্রতিবেদন জমা দিতে পেরেছি। তবে আমরা সবাই আইটি বিশেষজ্ঞ নই, ফলে কিছু টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রযুক্তিগত অ্যাক্সেস আমাদের নেই, যেমনটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর থাকে। তাই একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে সময় লাগছে। এ কারণেই আমরা সময় বৃদ্ধি করেছি এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে ভেরিফিকেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, ফটোকার্ডটির সত্যতা ও উৎস সনাক্তে কাজ এখনও চলমান রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য সচিব হিসেবে আছেন একই হলের আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদ এবং সদস্য হিসেবে আছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান।

জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র এবং ঢাবি শিবিরের সাবেক তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন এমন একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সেই ফটোকার্ডকে ভূয়া উল্লেখ করে এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে যান। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানায় অবস্থান নেন। শাহবাগ থানায় সেসয়ম সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এরপর শাহবাগ থানায় ডাকসুর কয়েকজন নেতৃবৃন্দ গেলে তাদের ওপরও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করা হয়। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফটোকার্ডটির বিষয়ে তদন্ত করতে কমিটি গঠন করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এদিকে, ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার পোস্টটি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নয় বলে জানিয়েছে। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ এপ্রিল দুপুর ২ টা ৩৪ মিনিটে ‘Eshan Chowdhury’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে (পূর্বে নাম ছিল Albert Garrison) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ছবি কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন উল্লেখ করে প্রচার করা হয়। 

Eshan Chowdhury এর সেই পোস্ট প্রকাশের ১২ মিনিট পর (দুপুর ২ টা ৪৬ মিনিটে) সেখানে Ahmed Habib নামের একজন একটি মন্তব্য করেন।  

Ahmed Habib এর এই কমেন্টটির ৬ মিনিট পর, দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে কুরুচিপূর্ণ ওই পোস্টটির স্ক্রিনশট নেওয়া হয়। অর্থাৎ, স্ক্রিনশট নেওয়ার সময় পোস্টটির বয়স ১৮ মিনিট এবং কমেন্টের বয়স ৬ মিনিট। 

দুপুর ২ টা ৫৭ মিনিটে LE O নামের বাংলাদেশ থেকেই পরিচালিত আওয়ামী পন্থী একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কুরুচিপূর্ণ ছবি সম্বলিত সম্পাদিত স্ক্রিনশটটি পোস্ট করা হয়। 

পোস্টটিতে দাবি করা হয়, Abdullah Al Mahmud নামের এক ব্যক্তি একই কুরুচিপূর্ণ ছবিটি প্রচার করেছিলেন। LE O নামের অ্যাকাউন্টটির পোস্টের দাবি অনুযায়ী, ১৮ মিনিটের মাথায় ৪ রিয়েকশন সংবলিত স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে। 

Eshan Chowdhury নামের অ্যাকাউন্টের ১৮ মিনিটের সময়কার স্ক্রিনশট নিয়ে সেখানে নাম ও ছবি মুছে Abdullah Al Mahmud এর নাম ও ছবি বসিয়ে ভুয়া স্ক্রিনশটটি তৈরি করা হয়। স্ক্রিনশটটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলেও এই বিষয়টি বোঝা যায় যে এই পোস্টের ওপরই সম্পাদনা করা হয়েছে। যথাযথভাবে সম্পাদনা করতে না পারায় ক্যাপশনের ‘অতিরিক্ত’ বানানে ই-কার কিছুটা মুছে গেছে বা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের নিচে আংশিকভাবে ঢাকা পড়েছে।

তারকা হল্যান্ডকে নিয়ে শক্তিশালী দল ঘোষণা নরওয়ের
  • ২২ মে ২০২৬
কিশোরীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার ৩, ধরা-ছোঁয়ার বা…
  • ২২ মে ২০২৬
এজলাসে এক আসামিকে গাঁজা-ইয়াবা সাপ্লাই আরেকজনের, দুজনকেই জেল…
  • ২২ মে ২০২৬
স্কুলে যাওয়ার টাকা না পেয়ে বাবার ওপর অভিমান, অষ্টম শ্রেণির …
  • ২২ মে ২০২৬
পরিচয় মিলেছে নিহতের, ১৭ বছর আগে অভিমানে ছেড়েছিলেন বাড়ি
  • ২১ মে ২০২৬
শিশু ধর্ষণে অভিযুক্তকে ‘আটক’ করতে পুলিশের গুলি, ২ সাংবাদিক …
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081